বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা সেতু ইস্যুতে রফার চেষ্টা চলছে

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো বর্তমান সরকারের আমলেই বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের সাথে অমীমাংসিত বিষয় নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মূল সেতু, নদী শাসন, সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক এবং ব্রিজ অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজের বিস্তারিত ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। চারটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাথে ঋণচুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গতকাল বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শেষের পথে। সুতরাং কোনো সমস্যা হবার কথা নয়। ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের মধ্যে শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গ:এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত বেসরকারি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, শিক্ষানীতি না মেনে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো স্কুল তৈরি করে সেগুলো জাতীয়করণের দাবি করা অনৈতিক। কোন এলাকায় কয়টি স্কুল প্রয়োজন, সেখানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কত হবে তা নিয়ে নীতিমালা আছে। সে নীতিমালা সবাইকে মেনে চলতে হবে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আপনাদের আমরা সম্মান করি। আপনারা নীতিমালার আওতায় পড়েন কিনা তা দেখেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে শিক্ষকদের কোনদিন আন্দোলন করতে হয়নি। যেসব শিক্ষক আন্দোলন করছেন তাদের চাকরি জাতীয়করণ করতে হলে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। বাজেটে এত টাকা আসবে কোথা থেকে। আর শিক্ষকদের দাবি মানতে হলে সব উন্নয়ন কাজ বাদ দিয়ে শুধু বেতন ভাতা দিতে হবে। আমাদের আয় বাড়ুক। তারপর বিষয়টি দেখা যাবে। জাতীয় পার্টির (এ) সংসদ সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অন্যান্য প্রসঙ্গ:অপরদিকে সংসদ সদস্য পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১২ মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। আর্থিক সংস্থান নিশ্চিত হলেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এছাড়া পটুয়াখালীর রাবনাবাদে তৃতীয় সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে। এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরামর্শক নিয়োগের কাজ চলমান আছে। সংসদ সদস্য নূর আফরোজ আলীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ১৪ লাখ ৩৫ হাজার লোক অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রথম পর্যায়ে ১০ লাখ বাগান কর্মীর চাহিদা আছে। শিগগির আরো ২০ হাজার কর্মীর চাহিদা পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। চলতি বছর এক লাখ কর্মীর মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আছে। আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ কর্মীর মালয়েশিয়ায় যাবার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা যায়। সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা সংসদে জানান। তিনি বলেন, নানামুখী ব্যবস্থার ফলে বিগত চার বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। নাসিমুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত একনেকে মোট ১ হাজার ১০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় চার লাখ ৩২ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্পগুলোর বিপরীতে মোট এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।