ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যুত্ কোম্পানির প্রথম বৈঠক আজ

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩২
বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে গঠিত ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যুত্ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠক বসছে আজ বৃহস্পতিবার। হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে দুই দেশের সকল পরিচালক উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। কোম্পানিটি আপাতত বাগেরহাটের রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করবে। এ লক্ষ্যে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ-ভারতের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল রামপাল সফর করেছে। এদিকে বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুত্ সহযোগিতা বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক গতকাল বিদ্যুত্ ভবনে শুরু হয়েছে। বৈঠকে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানিসহ বিদ্যুত্ দেয়া-নেয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। আজ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করতে দরপত্র আহবান করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। পিডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেসব বিষয়ে এখনো মীমাংসা হয়নি তা নিয়ে আলোচনা করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ ব্যবস্থাপনা ও মূলধনে পরিচালিত এটিই প্রথম কোন সরকারি কোম্পানি। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে দুই দেশ থেকে সমান সংখ্যক পরিচালক আছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক মেয়াদে বাংলাদেশ এবং অন্য মেয়াদে ভারতীয় প্রতিনিধি কোম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। কোম্পানির প্রথম চেয়ারম্যান হয়েছেন বাংলাদেশের বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলাম। আজকের বৈঠকে ভারতের বিদ্যুত্ সচিব উমা শংকরও উপস্থিত থাকবেন। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের জন্য গত বছরের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতীয় ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) মধ্যে যৌথ কোম্পানি গঠনের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর কোম্পানির নাম রাখা হয় ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি। এরপর অক্টোবর মাসে কোম্পানির নিবন্ধন করা হয়। চুক্তিতে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কোন পক্ষের জন্য বাধাগ্রস্ত হলে, কিংবা যাদের জন্য প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের প্রকল্পে ব্যয় হওয়া অর্থের পুরোটা জরিমানা হিসেবে দিতে হবে। কোন পক্ষই এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আরবিট্রেশন (আইনগত মতভেদ নিরসন) হবে ব্রিটিশ এবং সিঙ্গাপুরের আইনে। চুক্তি অনুযায়ী এই কোম্পানির কাছ থেকে ২৫ বছর বিদ্যুত্ কিনবে পিডিবি। এদিকে বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য বাগেরহাটের রামপালের গৌরম্ভার কৈকর দশকাঠি এবং সাতমারি মৌজায় এক হাজার ৮৪৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সুন্দরবন থেকে এর দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার ও সুন্দরবনের বাফার জোন থেকে দূরত্ব চার কিলোমিটার, আর মংলা বন্দর থেকে দূরত্ব আট কিলোমিটার। আমদানি করা কয়লা রাখার জন্য মংলা বন্দরের কাছে আরো ২৫ একর জমি চাওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মধ্যে উত্পাদনে আসবে বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি। রামপালের বিদ্যুত্ কেন্দ্রে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না:ভারতের বিদ্যুত্ সচিব বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, ভারতের বিদ্যুত্ সচিব উমা শংকর বলেছেন, বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের উপর তার কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না, কারণ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের চুল্লির উচ্চতা থাকবে ২৫০ মিটার। সুন্দরবনের বাফার কেন্দ্র থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এই বিদ্যুত্ কেন্দ্র বিশ্বের সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে স্থাপন করা হবে। ফলে পরিবেশ দূষণ হবে কম, সুন্দরবনের ক্ষতির কোন আশঙ্কাই নেই। গতকাল দুপুরে রামপালের সাপমারি এলাকায় নির্মিতব্য বিদ্যুত্ কেন্দ্রের স্থান পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে শুধু সুসম্পর্কই নয়, রামপালের এ তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র একটি বিশাল স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এ বছরের এপ্রিলে দুই দেশেরে দু্ই প্রধানমন্ত্রী এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। দুই দেশের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গহর রিজভী, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ, বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন।