প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতিম শিশুদের আশ্রয় দেয়া ও তাদের পারিবারিক পরিবেশে লালন-পালন করার জন্য এসওএস শিশুপল্লীর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে দেশব্যাপী এ মিশন ছড়িয়ে দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের এক বড় অংশের শিশু বিভিন্নভাবে যথাযথ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এসওএস শিশুপল্লী এ ধরনের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের লালন-পালনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। তিনি গতকাল রাজধানীর শ্যামলীতে দাতব্য সংস্থা এসওএস শিশুপল্লী বাংলাদেশের চার দশক উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণকালে একথা বলেন।
এসওএস শিশুপল্লী ১৯৭২ সালের মে মাসে বাংলাদেশে তার কর্মকাণ্ড শুরু করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শ্যামলীতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিশুপল্লীর উদ্বোধন করেন। পরে রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও সিলেটে এর শাখা খোলা হয়। এ পর্যন্ত মোট ৮৪৭ শিশু এই পল্লী থেকে তাদের শিক্ষা সম্পন্ন করে নিজেদের সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়া প্রায় ১২ হাজার সুবিধা বঞ্চিত শিশু এসওএস শিশুপল্লীর কর্মকাণ্ডে উপকৃত হয়েছে।
শিশুরা জাতির ভবিষ্যত্, শিশুদের নিষ্ঠা, জ্ঞান, দক্ষতার ওপর জাতির ভবিষ্যত্ নির্ভরশীল একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশাকরি শিশুরা তাদের নিষ্পাপ চোখ দিয়ে দেশকে দেখবে। তারা জাতির জনক ও মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন ও কর্ম এবং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের ভালবাসতেন। তিনি শিশুদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পেলে খুব খুশি হতেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শিশু ও নারীর অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি শিশুদের জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এসওএস শিশুপল্লীর প্রতিষ্ঠাতা হারম্যান মেইনারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে হারম্যানের জন্য শিশুপল্লী প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে শিশু অধিকার আইন প্রণয়ন করেছেন এবং বর্তমান সরকার ২০১১ সালে সময়োপযোগী জাতীয় শিশুনীতি তৈরি করেছে।
শিশু উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিশুদের পুষ্টি সম্পর্কিত জাতীয় কার্যপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ প্রসঙ্গে তিনি এতিম ও গরিব পরিবারের শিশুদের শিক্ষা ও তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহে সহায়তা দিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ট্রাস্টের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন।
