জেল হত্যা মামলার আপিলের শুনানিতে অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ এডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তারা কারাগারে এসে চার নেতাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে অপর একটি দল এসে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। বঙ্গবভবনে ষড়যন্ত্রের বৈঠকের পর এই দুই দল সেনা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। এ মামলার বিচারকালে এদিকটি বিবেচনায় রাখতে হবে। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী এডভোকেট আনিসুল হক এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে এ শুনানি চলছে। গতকাল শুনানি শেষে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়।
শুনানিতে আনিসুল হক বলেন, কারাগারে কে কে যাবে, সেটা চূড়ান্ত হয় বঙ্গভবনের বৈঠকে। ওই ঘটনার আগে আওয়ামী লীগ নেতারা কোথায় আছেন তা মেজর ডালিম এসে দেখে যায়। পরে মেজর ফারুক বঙ্গভবন থেকে ফোন করে আবার জানতে চায় তাদেরকে কোথায় রাখা হয়েছে।
শুনানিকালে এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। গতকাল পর্যন্ত এ মামলায় সরকারপক্ষে ৫ দিন শুনানি করা হলো। গত ১৫ জানুয়ারি শুনানি শুরু হয়।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়।
