মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইবাদত করা। এই ইবাদত কোন পাথর, মাটি, চন্দ্র-সূর্য, নক্ষত্র, গ্রহ বা বৃক্ষের জন্য নয়। এই ইবাদত কখন কিভাবে করবে তা জানা আবশ্যক। এই ইবাদত একান্তই হওয়া উচিত মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যই। একথার বাস্তব রূপ দিতে আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অনেক নবী রাসূল পাঠিয়েছেন। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত যত নবী রাসূল এসেছেন তাদের সবাই এসেছেন আল্লাহর কাছ থেকে প্রেরিত বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মৃত্যুর পর আর কোন নবী রাসূল আসবেন না। তিনিই শেষ নবী। তিনি জীবিত থাকতে যেভাবে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতেন যে পন্থা অবলম্বন করতেন, ঠিক সেইভাবে আমরা নবীর উম্মত যারা যাদের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছায়নি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকব। নবীর মৃত্যুর পর দাওয়াতের এই গুরু দায়িত্ব নবী (স.) তাঁর উম্মতের ওপর ছেড়ে দেন। নবী (স.) বলেন, আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছিয়ে দাও। বিদায় হজ্বের ভাষণে নবী (স.) সাহাবায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, তা হল কুরআন ও সুন্নাহ। যদি তোমরা এ দুটি আকড়ে ধর তাহলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। সুতরাং হেলায় ফেলায় তাচ্ছিল্লের সাথে দাওয়াত দিলে হবে না। দাওয়াত দিতে হবে কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে সঠিক ও নির্ভুলভাবে। আল্লাহ তায়ালা ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে দাওয়াতের কাজটি সবার ওপর ফরজ করে দিয়েছেন। পৃথিবীর যত নবী রাসূল এসেছেন তাদের সবাই অত্যন্ত কঠোর পরিস্থিতিতেও তাদের এই দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সুতরাং ফরজ কাজ মনে করে তাগিতের সাথে এই কাজ আদায় করতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষকে সত্ কাজের আদেশ দেবে ও অন্যায় কাজ করতে নিষেধ করবে। এই কাজের কোন অবসর নেই, এই প্রজন্মের পর পরবর্তী প্রজন্মে যত মানুষ আসবে তাদের মধ্যে এমন একদল লোক থাকবে যারা এই গুরু দায়িত্ব হাতে তুলে নেবেন। কেয়ামত পর্যন্ত এই দাওয়াতি কাজ চলবে। বর্তমানে এই দাওয়াতি কাজ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দাওয়াতের মূল শাখা বিস্তার করে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদ্রাসাগুলো অন্যতম। এই মাদ্রাসার মাধ্যমে মানুষ প্রথম থেকেই দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ এবং পরে তা প্রচার করে থাকেন। এসব মাদ্রাসাগুলোতে মানুষ হওয়ার এবং মানুষ বানানোর কলাকৌশল শিক্ষা দিয়ে থাকে, যা দ্বারা মানুষ ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে তা মানুষের কাছে প্রচার করতে পারে। এসব মাদ্রাসা থেকে হাজার হাজার আলেম, হাফেজ, ক্বারী, মুফতী, ওয়ায়েজ, সাহিত্যিক, লেখক, মুবাল্লিগ, খতিব, ইসলামী চিন্তাবিদ বের হয়ে আসে। যারা দ্বীনের বহুমুখী খেদমতে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। এদের মধ্যে থেকে একেক জন একেক কাজ করে সর্বদা দ্বীনের দাওয়াতি কাজ পরিচালিত করে যাচ্ছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে তাদের সক্রিয় পদচারণা। মূলত দাওয়াতি কাজের মুল সূচনা হয় এসব দ্বীনি প্রতিষ্ঠান থেকে। তাছাড়া ওয়াজের মাধ্যমে সহজেই মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া যায়। যারা কমশিক্ষিত তাদের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য ওয়াজ অন্যতম মাধ্যেম। যা মনোযোগের সহিত শ্রবন করলে মানুষ দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারবে। আজকাল গ্রামে, শহরে বিভিন্ন মসজিদ প্রাঙ্গনে ঈদগাহে সব জায়গায় ওয়াজের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে অভিজ্ঞ জ্ঞানবান আলেমরাই ওয়াজের মাধ্যমে এই মহান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
