মরে যাচ্ছে তিস্তা

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০০
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় শুকিয়ে গেছে একদা খরস্রোতা তিস্তা নদী। চারদিকে শুধু বালুচর। নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পথচারীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে চরমভাবে। ভারত একতরফা ভাবে উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। ক্ষীণ হয়ে এসেছে নদী। তিস্তার বুক জুড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর-ডুবো চর। চরগুলোতে শুধু বালু আর বালু। প্রতি বছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সাথে নেমে আসে বালু। ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে প্রতিবছর। শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় নৌ পরিবহনে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত কম ও পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে তিস্তার পানি গত বছরের চেয়ে অনেক কমে গেছে। প্রতি বছর তিস্তার তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে নদী হারিয়েছে তার অতীত ঐতিহ্য। এক সময় দূর-দূরান্ত থেকে নৌ পথে ব্যবসায়ীরা আসতো বাণিজ্য করতে। সেই দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়ে না। সেই সাথে তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে সহজেই দু’কূল ছাপিয়ে বন্যা আসে। ভাঙ্গে আবাদী জমি, ঘর-বাড়ি। নিঃস্ব হয় শতশত পরিবার। তাছাড়া পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে নদীতে মাছও গেছে কমে। জেলেরা চলে যাচ্ছে অন্য পেশায়। ধুধু চরের বালু কারাপি ভেঙ্গে যাতায়াত করতে এলাকার লোকজনের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। কোলকোন্দ এলাকায় খেয়া ঘাটের ইজারাদার আব্দুল কাদের জানান, লোকজনের যাতায়াত সুবিধার জন্য বালুর উপর খড় বিছানো হয়েছে। তারপরও পথচারীদের খুব কষ্ট হচ্ছে। আর যেভাবে নদীর পানি কমছে, তাতে নৌকা চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কোলকোন্দ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন পায়ে হেঁটে, সাইকেলে কিংবা মোটর-সাইকেলে দুই-তিন হাজার মানুষ নৌকায় যাতায়াত করে। চরের বালু ভেঙ্গে আসতে তাদের যথেষ্ট দুর্ভোগ পোহাতে হয়, অন্যান্য ঘাট দিয়ে যাতায়াতরত পথচারীদেরও একই অবস্থা। উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবর রহমান প্রামাণিক জানান, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদী ড্রেজিং করলে তিস্তা তীরবর্তী অনেক কৃষক সেচ সুবিধা পেতো। এতে বিভিন্ন ফসলের উত্পাদন বাড়তো।