পঞ্চগড়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ জুড়ে নির্মাণ সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি রাখায় একদিকে খেলার মাঠ বেদখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে একদিকে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে তারা। পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠিহাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের হাজরাডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসা। ওই মাদ্রাসার পাশেই রয়েছে হাজরাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই দুই প্রতিষ্ঠানের শিশুরা এই মাঠে খেলাধুলা করতো। কিন্তু মাঠ জুড়ে নির্মাণ সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি রাখায় একদিকে বন্ধ হয়ে গেছে খেলাধুলা অন্যদিকে ধুলাবালিতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ওই এলাকার পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে হাজরাডাঙ্গা থেকে কালিগঞ্জ পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলছে। গত ১০ দিন আগে এই কাজ শুরু হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস ট্রেডার্স এই কাজ করছেন। ঠিকাদার রাস্তার কাজের বালি পাথরসহ যন্ত্রপাতি ও যানবাহন রাখছেন ওই মাঠে। স্থানীয় অভিভাবক আব্দুস সাত্তার জানান, মাদ্রাসা কমিটি এবং শিক্ষকদের বারবার বলা হলেও তারা এসব মালামাল সরাচ্ছেন না। প্রচুর ধুলাবালি উড়ছে। এতে ছেলেমেয়েদের স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে।
মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম এবং হাজরাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সবুজ ইসলাম জানান, পাথর বালি যন্ত্রপাতি ও যানবাহন দিয়ে পুরো মাঠ বোঝাই। এসব থাকার কারণে আমরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছি না। মাঠের মধ্যে প্রচুর ধুলাবালি ওড়ছে। মাদ্রাসা সুপারিন্টেন্ডেন্ট মতিউর রহমান বলেন, ‘কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ঠিকাদার আলাপ করে একটি আলমারির বিনিময়ে এসব মালামাল মাঠে রাখতে দিয়েছেন। এর বেশি কিছু আমি জানি না। কমিটি বলেছে বলেই আমি মাঠে এসব রাখতে দিয়েছি।’
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মকছেদ আলী বলেন, ‘ঠিকাদার বই রাখার জন্য একটি আলমারি দেবে, তাই কমিটির সবাই মিলে মাঠে এসব রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মুক্তা সরকারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার ম্যানেজার সিদ্দিক আলী বলেন, ‘তিনি অসুস্থ। বালি পাথর রাখার জায়গা নেই তাই মাদ্রাসার মাঠটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে রাস্তার কাজের মালামাল রাখা নিঃসন্দেহে ভালো কাজ নয়। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’
