ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে তিনটি ইউনিয়নের ১০/১২টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক লোক চলাচল করে আসছে। কর্তৃপক্ষ সেতুটিকে ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এলাকাবাসী সেতুর দুই পাশে “এটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ, যাত্রী ও মালবাহী যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ” লেখা দুটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন। তবে বিপদ জেনেও অব্যাহত রয়েছে বিভিন্ন যান চলাচল।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মেঘনা ও তিতাস নদীর সংযোগ নদ জাফর খাঁ’র ওপর সরাইল উপজেলা সদরের সৈয়দটুলা গ্রামের উত্তর প্রান্তে ১৯৬৫ সালে সেতুটি নির্মিত হয়।
এ সেতু দিয়ে উপজেলা সদরের সৈয়দটুলা, কুট্টাপাড়া, নোয়াহাটি দর্জিপাড়া, শ্রীঢুবা পানিশ্বর ইউনিয়নের বড়ইবাড়ি, বেড়তলা, বিটঘর, সিমনা, শিতাহরণ, শান্তিনগর এবং সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের মালিহাতা, বুধর ও সিরাজনগর গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক লোক চলাচল করে থাকে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার ও প্রস্থ ৪ মিটার। প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো সেতুটি দু’টি খুঁটির ওপর দণ্ডায়মান। সেতুটির রেলিংয়ের একাংশ ভেঙ্গে রড বের হয়ে গেছে অনেক আগেই। দুই বছর আগে সেতুর মাঝখানের একাংশের ঢালাই ভেঙ্গে দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে তিন ফুট জায়গা ফুটো হয়ে গেছে। এ ছাড়া সেতুটির বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে যানবাহন ও মানুষ। স্কুলগামী কচি শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় থাকেন অভিভাবকরা। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সৈয়দটুলা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়া (৪৫) বলেন,‘এ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কুট্টাপাড়া গ্রামের শফিকুর রহমান বলেন, যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটতে পারে মানুষের জীবনহানি। ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ভাবতে হবে।’ মইনুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘গত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে সেতুটি নতুনভাবে নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত সেতুটি নির্মাণ করে দেয়নি।’
