অতিথি পাখির কল-কাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর। এক বিল থেকে অন্য বিলে, এক হাওর থেকে অন্য হাওরে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে অতিথি পাখি। শীত উপেক্ষা করে অতিথি পাখি দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসছেন পাখিপ্রেমিক ও পর্যটকরা। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে নেপাল, চীন, মঙ্গোলিয়া, সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঝাঁকে ঝাঁকে আসে অতিথি পাখি। এবছর এর ব্যতিক্রম হয়নি। লেনজা, মৌলভী, বালিহাঁস, সরালি, কাইম, কলাকুড়াসহ শতাধিক প্রজাতির লাখ লাখ অতিথি পাখির কল-কাকলিতে মুখর এখন টাঙ্গুয়ার হাওর। হাওর পাড়ের গ্রাম বিনোদপুরের বশির আহমদ জানান, হাওরে পানি না কমলে আদার(খাদ্য) পাবে না পাখি। হাওরে যত পানি কমছে,অতিথি পাখির সংখ্যা ততই বাড়ছে। দক্ষিণবংশী কুন্ডার মনজু মিয়া বলেন, হাওর এখন লেনজা, মৌলভী, বালিহাঁস, সরালি, কাইমসহ শত প্রজাতির লাখ লাখ পাখির দখলে। যেদিকেই চোখ যায় শুধু পাখি আর পাখি। হাওরে মাছ ধরেন রইছউদ্দিন। তিনি জানান, এক সময় হাওরে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য ছিল, এখন কিছুটা কমেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে পাখি দেখতে আসা এহতেশামুল হক জানান, অনেক দিন ধরেই টাঙ্গুয়ার হাওরের অতিথি পাখির কথা শুনছিলাম। এ বছর কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পাখি দেখতে এলাম। খুব ভাল লাগছে। তিনি জানান, যাতায়াত আর আবাসনের সমস্যা না থাকলে এই হাওর দেশের সব চেয়ে বড় পর্যটন স্পট হতে পারতো। টাঙ্গুয়া হাওর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আইইউসিএন’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ জানালেন, হাওরে আসা অতিথি পাখির সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। হাওর এলাকার মানুষের জীবন মানোন্নয়ন ও গাছ, পাখি, মাছসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ ইয়ামিন চৌধুরী জানান,আগে টাঙ্গুয়ার হাওর ইজারা প্রথা ছিল, এখন সে দেয়া হতে বেরিয়ে এসে কিভাবে অতিথি পাখির অবাধ বিচরণসহ প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায় সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশাকরি আগামীতে অতিথি পাখির সংখ্যা আরো বাড়বে।
