১৫ সদস্যের কমিটি গঠনের দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে করে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভও দানা বেধেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উদাসীনতার কারণে কুমিল্লার ছাত্রলীগের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সাংগঠনিকভাবে ঝিমিয়ে পড়ছে। কমিটি গঠনে স্থবিরতার কারণে দলের চেইন অব কমান্ড অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছে।
কুমিল্লার ১৬টি উপজেলার মধ্যে ৯টি উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা (দক্ষিণ) রাজনৈতিক জেলা গঠিত। ২০১১ সালের ২৭ জুন কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা ছাত্রলীগের ১৫ সদস্যের একটি কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কেন্দ্রঘোষিত ছাত্রলীগের ওই কমিটিতে বর্তমান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব এমপি গ্রুপের কর্মীদের ‘প্রাধান্য দেয়াকে’ কেন্দ্র করে বিবদমান মুজিবুল হক এমপি ও আ.ক.ম বাহাউদ্দিন এমপি সমর্থিতদের মধ্যে কুমিল্লা মহানগরীতে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কমিটি গঠনের একমাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের কথা থাকলেও বিগত দেড় বছরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৫ জুন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের বৈঠকে পুরানো কয়েকটি জেলা কমিটি বিলুপ্ত করার পাশাপাশি নবগঠিত সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নতুন শাখা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন সাবেক ছাত্রনেতা নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম ও এড. আনিছুর রহমান মিঠু। পরবর্তীতে একই সালের ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আ.হ.ম মোস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) বাড়িতে অনুষ্ঠিত দলের বর্ধিত সভায় বিদ্রোহী দুই প্রার্থী তানিম ও মিঠুকে এবং ওই নির্বাচনে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিনও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার কারণে তার বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে দলে আরো টানাপোড়েন দেখা দেয়। ফলে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ক্রমে হতাশ হয়ে পড়ছেন। এতে জেলার ছাত্রলীগের মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম তেমন সোচ্চার হচ্ছে না।
