জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে :মতিয়া চৌধুরী

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৯
একাত্তরের ঘাতকের মূর্তিতে নতুন করে আবির্ভূত জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে যুবসমাজসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের বোমা হামলা এবং জঙ্গিবাদী তাণ্ডবের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর যুবলীগ (দক্ষিণ) এ সমাবেশের আয়োজন করে। বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধী ও দেশ বিরোধীদের কবর দেয়ার সময় এসছে। একটি যুদ্ধাপরাধী বেঁচে থাকা পর্যন্ত বিচার কাজ চলবে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনী অঙ্গীকার মতো আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ করছি। রাজাকারদের কবর দেয়ার মাধ্যমে একেকটা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিষদাঁত তুলবো। চিরদিনের মতো তাদের স্তব্ধ করে দিবো। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার অবশ্যই রাজনৈতিক। কারণ মুক্তিযুদ্ধ ছিল রাজনৈতিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে। আর এর বিরোধিতাকারী রাজনৈতিকভাবেই অপরাধী। সুতরাং রাজনৈতিকভাবেই এই বিচার হবে। মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘ওয়ানস্ এ দালল ইজ নাউ এ দালাল, ওয়ানস এ রাজাকার নাউ এ রাজাকার।’ তাই যেখানেই দালাল সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মতিয়া চৌধুরী বলেন, দালালরা আজকে মাঠে নেমেছে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য। সরকারে থাকলে অনেক সহ্য করতে হয়। কিন্তু সহ্যকে দুর্বলতা মনে করবেন না। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা বিচার বন্ধের কম চেষ্টা করেননি। বিচারপতির আলাপ হ্যাক করলেন, স্কাইপ করলেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ চলছে, আগামীতে বাকি রায় ঘোষণা এবং তা কার্যকর করা হবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান হীরণ, সহ-সভাপতি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, যুবলীগ মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলম আরিফ প্রমুখ। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রায় আসা শুরু হওয়ায় জামায়াত-শিবির একাত্তরের মতো হিংস্র রূপ ধারণ করছে। তাদের সকল অপকর্মের পেছনে পূর্ণ মদদ দিচ্ছে বিএনপি। বিএনপি ও জামায়াতকে আলাদা করে দেখার কিছু নেই। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ হরতাল কর্মসূচি পালন রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেখানেই জামায়াত সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আর সহ্য করবে না। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় জামায়াত-শিবির বিরোধী কমিটি গঠন করতে হবে। জামায়াত-শিবির নেতারা এখন বিএনপির ছাতার নিচে বসবাস করছে। তাদের এই ছাতা ভেঙ্গে দিতে হবে। তিনি জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের উপজেলায় এবং ৪ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে যুবলীগ।