বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা আপাতত বহাল থাকছে

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২০
বাংলাদেশকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) অবশেষে বহাল থাকছে। গত কয়েকদিন এ নিয়ে নানা উত্কণ্ঠা থাকলেও বাংলাদেশ আপাতত: শংকামুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়তা কাঠামো (টিকফা) চুক্তি স্বাক্ষরে বাংলাদেশের মনোভাব জানার পর মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর (ইউএসটিআর) জিএসপির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে। তবে জিএসপি বহাল রাখার জন্য এবার ইউএসটিআর-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে কিছু শর্ত দেয়া হবে। এসব শর্ত বাস্তবায়নে সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হবে। এবার তাজরিন গার্মেন্টস-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মার্কিন আইন প্রণেতারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তবে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরে বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করায় কংগ্রেসম্যানরা বাংলাদেশের পক্ষে কিছুটা সহানুভূতিশীল থাকবেন। ইতিমধ্যে টিকফা চুক্তির খসড়া অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, বাণিজ্যমন্ত্রী এক চিঠিতে বলেছেন, টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর না করলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বহাল রাখা কঠিন হবে। মার্কিন শীর্ষ শ্রম অধিকার সংগঠন এএফএল সিআইও’র (আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার এন্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশন্স) আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার বিষয়ে শুনানি করবে ইউএসটিআর। সংগঠনটি বাংলাদেশের জিএসপি বাতিলের আবেদনে শ্রমিকদের অধিকার ও কারখানার পরিবেশের বিষয়ে মোট ২৩টি অভিযোগ করেছে। ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের জবাব দেয়া হয়েছে। এদিকে, শুধু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ই নয়, বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার জন্য জোরালো যুক্তি দিয়ে ইউএসটিআর এর কাছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আলাদা আলাদা চিঠি দিয়েছে। এসব চিঠিতে এএফএল সিআইও’র অভিযোগের জবাব তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাজরিন গার্মেন্টস এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা জিএসপি নিয়ে এবার কঠোর অবস্থানে আছেন। তবে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরের ইতিবাচক মনোভাবে কংগ্রেসম্যানরা তাদের অবস্থান শিথিল করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশ যদি মনে করে টিকফার বিনিময়ে জিএসপি হবে তাহলে সেটা ভুল হবে। কারণ এএফএল সিআইও এবার কঠোর অবস্থানে আছে। তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে ইউএসটিআর এর কাছে বাংলাদেশ যে জবাব দিয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট হবে। এক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশকে সময় বেঁধে দিতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে। মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, জিএসপির বিষয়ে আগামী মার্চে সিদ্ধান্ত হবে-সে বিবেচনায় বাংলাদেশের হাতে সময় কম। সেজন্য বাংলাদেশকে আরো সতর্কতার সাথে এগুতে হবে।