পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত ছাড়া পদ্মায় অর্থায়ন নয়

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে না। দুর্নীতির প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বিশ্বব্যাংক এই কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মত প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আইনগত ও অন্যান্য চলমান কিছু প্রক্রিয়া তাদের নিজস্ব গতিতে চলছে। এগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার কোন ইচ্ছে আমার নেই।’ বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি বিরোধী এক আলোচনা সভায় পদ্মা সেতুকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক প্রধান বলেন, ‘কোন কোন সময় ঘটনা ভুল পথে যায়, তখন আমাদের শক্ত না হয়ে উপায় থাকে না। এটাই ঘটেছে প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুর বেলায়। সেতু প্রকল্পটিতে দুর্নীতির প্রমাণাদির বিষয়ে সেখানকার কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে সাড়া না দেয়ায় গত বছর জুনে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণটি বাতিল করতে হয়। প্রকল্পটির সতর্ক তদারকির জন্যে কিছু শর্ত পূরণ ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি না। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্যে এই সেতু কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে তথ্য জেনেই আমি এ কথা বলছি। আসলে ইস্পাতের এই সেতুটি তাদের জন্যে সম্ভাবনার একটি দ্বার।’ তিনি বলেন, ‘তবে আমি পরিষ্কারভাবে এ কথাও বলতে চাই - যদি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন করা কোন প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনা ঘটে সে ক্ষেত্রে আমরা কোন ধরনের (জিরো টলারেন্স) ছাড় দেব না।’ উন্নয়নের পথে দুর্নীতি প্রধান বাধা উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক প্রধান বলেন, ‘দোষীদের নাম প্রকাশ্যে বলতে বিশ্বব্যাংককে নতজানু হলে চলবে না। যদি আমরা দুর্নীতি চিহ্নিত করি তবে তা প্রকাশ্যে বলব এবং পদক্ষেপ নেব।’ বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে এ ভাষণটি প্রকাশ করা হয়েছে। জিম ইয়ং কিম আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পরও বাংলাদেশে আমাদের অন্যান্য প্রকল্প অব্যাহত রেখেছি। সেখানে ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ৩০ প্রকল্প চালু আছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থানের অর্থ এই নয় যে আমরা বাংলাদেশের আরও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাহ্য করছি।’ এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, বিকল্প অর্থায়নে গেলে পদ্মা সেতুর কাজ বর্তমান সরকারের মেয়াদে শুরু করার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, অর্থায়নে জটিলতা নিরসনে তিনি বিশ্বব্যাংক প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চান। ফেব্রুয়ারিতে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়ে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিকল্প অর্থায়নের যে কথা বলেছেন, সেটাও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এতেও দেরি হবে, ছয় মাস পেছাতে পারে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন হয়ে গেলে খুব তাড়াতাড়িই সেতুর কাজ শুরু করা যায় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। একই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের সাথে অমীমাংসিত বিষয় নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মূল সেতু, নদীশাসন, সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক এবং ব্রীজ এন্ড ফ্যাসিলিটিজ এর বিস্তারিত ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। চারটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাথে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শেষের পথে। তিনি বলেন, দুই দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের মধ্যে শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।