রাজধানীতে পৃথক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তরায় কিশোরী গৃহকর্মী জান্নাতকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা খাদেমুল বাশার রুমন (৩৩), বন্ধু কামরুল হাসান ভুঁইয়া (৩২) ও রফিকুল ইসলাম (৩৩) এবং গৃহকর্ত্রীর ভাই জোবায়ের হোসেনকে (১৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পল্টনে একটি অফিসে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে এক যুবতীকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করেছে দুই আদম ব্যবসায়ী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আদম ব্যবসায়ী মজিদ (৪৩) ও জাকিরকে (৪১) গ্রেফতার করেছে।
উত্তরা (পশ্চিম) থানার ওসি খন্দকার রেজাউল ইসলাম জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা ৩নং সেক্টর ক্রিসেন্ট হাসপাতালে গৃহকর্মী জান্নাতকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান গৃহকর্ত্রী সানজিদা আক্তার (২৪)। কর্তব্যরত চিকিত্সক জান্নাতকে মৃত ঘোষণা করলে সানজিদা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সানজিদা আক্তারকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ সানজিদা আক্তারকে আটক করে। খবর পেয়ে সানজিদাকে ছাড়িয়ে আনতে গৃহকর্তা খাদেমুল বাশার রুমন (৩৪) তার দুই বন্ধু কামরুল (৩৩) ও রফিকুলকে (৩২) নিয়ে ঐ হাসপাতালে উপস্থিত হন এবং পুলিশকে জানায় যে, জান্নাত আত্মহত্যা করেছে। তাদের কথা সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের পুলিশ গ্রেফতার করে। এসময় সানজিদা আক্তার হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ রুমনকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর ৪ নম্বর রোড ৬ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে সানজিদার ছোট ভাই জোবায়েদ হোসেনকে (১৮) গ্রেফতার করে। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। রিপোর্টে গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে কি-না তা ময়নাতদন্তে উল্লেখ করার জন্য আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়। লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। নিহত গৃহকর্মী জান্নাতের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বড়ধসিয়া গ্রামে। এসআই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু মিয়া জানান, গ্রেফতারকৃত ৪ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গৃহকর্ত্রী সানজিদা আক্তারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পল্টনে এক যুবতীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আদম ব্যবসায়ী মজিদ (৪৩) ও জাকির (৪১) বুধবার সন্ধ্যায় পল্টন থানা এলাকার মরণচাঁদ হোটেলের তৃতীয় তলায় অবস্থিত তাদের অফিসে নিয়ে যায়। তাকে চেতনানাশক দ্রব্য মিশ্রিত খাবার খাওয়ায়। যুবতী অচেতন হয়ে গেলে তারা দুইজন রাতভর তাকে ধর্ষণ করে। ভোর সোয়া ৪টায় দিকে যুবতীর জ্ঞান ফিরে এলে কৌশলে নিচে নেমে ?আসে। কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকায় বাঁচানোর জন্য চিত্কার করতে থাকে। লোকজন চিত্কার শুনে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে যুবতীকে উদ্ধার করে। তার অভিযোগে তৃতীয় তলায় ঐ দুই আদম ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। যুবতীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পল্টন থানায় দুই আদম ব্যবসায়ীকে আসামি করে যুবতী বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে।
