মূল লক্ষ্য অর্জনের ঝুঁকি থাকছেই

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৩
মূল্যস্ফীতি যথাসম্ভব কমিয়ে রেখে জাতীয় বাজেটে ঘোষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল ঘোষিত এ মুদ্রানীতি আগের কয়েকটি মুদ্রানীতির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ভঙ্গীর। নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে কমেছে রেপো ও বিশেষ রেপোর সুদহার। মুদ্রানীতিতে নেয়া এসব সিদ্ধান্তের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কট অনেকটা লাঘব হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কিছুটা বাড়বে। তবে সার্বিক বিবেচনায় মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য অর্জনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা। নয়া মুদ্রানীতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনায় এবারের মুদ্রানীতি কিছুটা নমনীয় হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে। তবে বৈদেশিক সম্পদ ও রিজার্ভ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির উপর চাপ থাকতে পারে। এজন্য আমদানির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। আর আমদানি করা মেশিনারিজসহ অন্যান্য পণ্য উত্পাদনশীল খাতে ব্যবহার করতে পারলে কর্মসংস্থান বাড়বে। এদিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা সাত দশমিক দুই শতাংশ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা জোর করে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগ প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে যে পূর্বাভাস দিয়েছে তা অর্জিত হলেও ভাল হবে বলে তিনি মনে করেন। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এবারের মুদ্রানীতি অনেকটা আগের মতোই। বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই। যেহেতু গত মুদ্রানীতি ভালোভাবে কাজ করেছে, তাই এবারও তার ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবারের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো ও ব্যাপক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, রেপো ও বিশেষ রেপোতে সুদহার কমানোর কারণে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়ার ক্ষমতা বাড়বে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সবুর খান বলেন, রেপোতে সুদহার কমানোর কারণে ব্যাংকগুলো বেশি পরিমাণ ঋণ দিতে পারবে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের মেয়াদি ঋণ যোগানের প্রবৃদ্ধি শুধু বড় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে সীমিত না রেখে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণ বেশি পাবে। এতে কর্মসংস্থানও বাড়বে।