কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা নির্ধারণ করবেন রাজনীতিকরা :সিইসি

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, আগামী দশম সংসদ নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে ও কোন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে তা রাজনীতিবিদরা সংসদে বসে ঠিক করবেন। তবে যে সরকারের অধীনেই হোক, কমিশন নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত। গতকাল বৃহস্পতিবার শেরে-ই বাংলানগরস্থ কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। দেশব্যাপী ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ উপলক্ষে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সিইসি বলেন, ‘গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। সংসদে সেই বিষয়টি ফয়সালা হবে। আমরা এখনই এ সম্পর্কে কিছু বলতে পারবো না। এজন্য আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।’ সিইসি আরো জানান, সারাদেশে বর্তমান মোট ভোটার সংখ্যা ৯ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার ৮৫২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ কোটি ৬২ লাখ এক হাজার ৮৭১ এবং মহিলা ভোটার ৪ কোটি ৫৯ লাখ ২৭ হাজার ৯৮১। হালনাগাদ কার্যক্রম শুরুর আগে ভোটার ছিল ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪০০। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৭০ লাখ ১৭ হাজার ৫২১। মৃত ভোটার কর্তন করা হয়েছে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬০ জন। ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৪ জন। তিনি আরো বলেন, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ থাকবে এবং তারাও আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যাদের বয়র ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে তাদের এবারের হালানাগাদে ভোটার করা হয়েছে। ২০১২ সালের ১০ মার্চ থেকে মাঠ পর্যায়ের ভোটার হালনাগাদ শুরু হয়। শেষ হয় একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর। ২ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। খসড়া ভোটার তালিকার ওপর আপত্তির আবেদন গ্রহণ করা হয় ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। আবেদনগুলো নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ছিল গত ২২ জানুয়ারি। আবেদনগুলো যাচাই-বাছায়ের শেষ তারিখ ছিল গত ২৭ জানুয়ারি। এবারের হালনাগাদ ভোটার তালিকার দাবি-আপত্তি ও সংশোধনের জন্য ৬৯ হাজার ২৩৬টির মধ্যে গৃহীত হয় ৬০ হাজার ৫৭৯টি আবেদন। সিইসি জানান, মোট ৫১২ উপজেলায় নিবন্ধন শেষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে ৩৮ লাখ ২৬ হাজার ৮৯২টি। তবে নতুন ভোটারদের কবে নাগাদ পরিচয়পত্র দেয়া যাবে তা জানাতে পারেননি তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, দ্রুতই পরিচয়পত্র দেয়ার চেষ্টা করা হবে। জাতীয় নির্বাচনের সীমানা নির্ধারণের ব্যাপারে সিইসি বলেন, ‘সীমানা নির্ধারণের কাজ চলছে, শিগগিরই খসড়া প্রকাশ করা হবে।