হরতালে ব্যাপক ভাংচুর বোমাবাজি, গাড়িতে আগুন

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
নির্বিচারে গাড়ি ভাঙচুর, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ ও পিকেটিংয়ের মধ্য দিয়ে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে রাজধানীর বেশিরভাগ মার্কেট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। অন্যান্য দিনের মত রাস্তায় তেমন যানবাহন চলাচল করেনি। তবে রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে মিনিবাস চলাচল করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হরতাল পালনকারীরা উপর্যুপরি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। হরতাল চলাকালে পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। এসময় পুলিশ-পিকেটার সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে এবং আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে এই হরতালের ডাক দেয় দলটি। তবে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হলেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরতাল পালন করা হয়। রাজধানীতে বিভিন্ন স্পটে ভোর থেকেই র্যাব-পুলিশের প্রায় ১২ হাজার সদস্য মোতায়েন ছিলো। সকালে বাংলামোটর এলাকায় হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে পর পর ৮টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এসময় মিছিলকারীররা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ মিছিলকারীদের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন স্থানে ভোর থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে মাঠে নামে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শনিরআখড়া ও বিশ্বরোডে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া করলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পালিয়ে যান। এক পর্যায়ে তারা একত্রিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখান থেকে ৪ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সকালে জামায়াত-শিবির কর্মীরা কাঁচপুরে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয়। সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন সানারপাড় এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। একই সময় জুরাইনে একটি লেগুনায় আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ের চাংপাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে হরতাল সমর্থকরা একটি লেগুনা থামিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বাড্ডা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় পুলিশ দুই শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। কল্যাণপুর এলাকায় সকালে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। এছাড়া সকাল ৭টার দিকে মিরপুরের কাজীপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া, ১০ নম্বর গোলচক্কর, ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড, মিরপুর ১৩ নম্বর এবং পল্লবী এলাকায় হরতাল সমর্থকরা ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় মিরপুর ১১ নম্বরে ৪টি যাত্রীবাহী বাসে, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চক্করে একটি বাসে, কাজীপাড়া ও শ্যাওড়াপাড়া ৬টি বাসে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করে হরতালকারীরা। মিরপুর-১০ নম্বর গোল চক্কর ও মিরপুর ১১ এলাকায় দুটি বাস জ্বালিয়ে দেয় হরতাল সমর্থনকারীরা। এসময় অন্তত ১০ পিকেটারকে আটক করে পুলিশ। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্যাওড়াপাড়া এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। মিছিলকারীরা রাস্তায় নেমেই বেপরোয়া গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। এসময় তারা একটি বাস, একটি ট্যাক্সি ও লেগুনা ভাঙচুর করে। পুলিশ ধাওয়া করে সেখান থেকে ৩ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। সকাল ৭টার দিকে লালবাগ-আজিমপুরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে। পরে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সেখান থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে হরতাল শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকের কাছে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ মিছিল লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবির কর্মীরা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তায় ১০/১২টি গাড়ি ভাঙচুর করে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭ জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করে। নারায়ণগঞ্জ:হরতাল চলাকালে ভোরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পুলিশ এক শিবিরকর্মীকে আটক করে। সিলেট:সকাল সাড়ে ৬টায় খণ্ডখণ্ড মিছিল করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা নগরীর মদিনা মার্কেট, লামাবাজার, মিরাবাজার, চণ্ডিপুল এলাকায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিবিরকর্মীরা মিরাবাজার সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। একই সময় মদিনা মার্কেট এলাকায় রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ করে এবং এ সময় দুইটি ট্রাক ভাংচুর করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করে। বরিশাল:এখানে হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা একটি সিটি বাসসহ ৫টি যানবাহন ভাংচুর করে। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জের রামপট্টি নামক স্থানে সিটি পরিবহনের একটি বাসে হামলা-ভাংচুর করলে ২০ যাত্রী আহত হয়। খুলনা:হরতাল চলাকালে ফুলতলা উপজেলায় ৯টি গাড়ি ভাংচুর করে পিকেটাররা। এছাড়া রেললাইনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বেশ কিছু সময় তারা অবরোধ করে রাখে। পুলিশ সরকারি বিএল কলেজের শিক্ষার্থী শিবিরকর্মী রাশেদ ও সামাদকে আটক করে। রাজশাহী:হরতাল চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি মিছিল করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তাদের কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেয়নি পুলিশ। তবে ফজরের নামাজের পরপরই হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা নগরীর হাদির মোড়, তালাইমারী ও অক্টয় মোড়সহ বিভিন্ন সড়কের উপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করে। ময়মনসিংহ:ছাত্রশিবির পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ২ দফা মিছিল করে। এ সময় কয়েকটি টেম্পু ভাংচুর করে এবং টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল পালনকারীরা। পাট গুদাম র্যালির মোড়ে পুলিশ নিরীহ পথচারীদের লাঠিচার্জ করে। শহর বাইপাস সড়কের মোড়ে পুলিশের সাথে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম:আধাবেলা হরতাল চলাকালে কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটলেও নগরীর কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোরে নাসিরাবাদে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি ককটেল উদ্ধার করে খুলশী থানা পুলিশ। কুমিল্লা:কুমিল্লায় হরতাল চলাকালে ২৪টি যানবাহন ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে ৫ জন। হরতাল পিকেটিংকালে ৩ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। নোয়াখালী:হরতালকারীরা সকালে জেলা শহরের পৌরবাজারের সামনের সড়কে একটি মালবাহী ট্রাক ও বিকেলে টাউন হল মোড়ে একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। বিকেল চারটার দিকে শহরে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা জঙ্গি মিছিল বের করে। পরে পুলিশ পৌরবাজার এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুই শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করে। বাগেরহাট:হরতাল চলাকালে পিকেটিং করার সময় বাগেরহাটে জামায়াত ও শিবিরের ৫ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার মেগনীসতলা এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করার সময় এদের আটক করা হয়। এছাড়া সংবাদপত্রবাহী একটি গাড়ি ভাংচুর করে পিকেটাররা। লক্ষ্মীপুর:সকালে কাজিরদিঘিরপাড় বাজারে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষ, আলীয়া মাদ্রাসার সামনে কৃষি ব্যাংকের ডিজিএমের গাড়িসহ দুইটি গাড়ি ভাংচুর, বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় দলের ১৫ জন আহত হয়। ঘটনার পর ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কাজিরদিঘিরপাড় বাজারে খাবার হোটেল ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। ঠাকুরগাঁও ঃ সকাল ৬টায় ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়-দিনাজপুর মহাসড়কে ৩টি স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তায় সড়ক অবরোধ করে রাখে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা। একই সময়ে খে্াচাবাড়ি নামক স্থানে ৫টি নৈশকোচ ভাংচুর করে শিবির কর্মীরা। সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পিকেটিং করার সময় পুলিশ শিবির কর্মী আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে। কক্সবাজার ঃ হরতাল চলাকালে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মাঝেও জামায়াত শিবির কর্মীরা জেলার বিভিন্নস্থানে ঝটিকা মিছিল বের করে এবং টমটম, রিকশাসহ ২০/২৫টি যানবাহন ভাংচুর করে। পিকেটিংকালে পুলিশ শহরের বিভিন্নস্থান থেকে ৬ শিবির কর্মীকে আটক করে। এর আগে বুধবার রাতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করা হয়। রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) ঃ হরতালের সময় সকালে রায়পুর উপজেলার কাজীরদীঘির পাড় বাজারে ছাত্রলীগ ও শিবির কর্মীদের মধ্যে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েক দফা সংঘর্ষ হলে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) ঃ হরতালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৮টি গাড়ি ভাংচুর ও দুই শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ভোরে জামায়াত শিবির কর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০-১২ টি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে। এ সময় তারা ৮ টি গাড়ি ভাংচুর করে। সকাল ৯টায় ডলি রিসোর্ট এলাকায় পিকেটিংকালে পুলিশের গুলিতে দুই শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) ঃ হরতালের সময়ে কুমিল্লার চান্দিনায় পিকেটারদের আকস্মিক পৃথক দুটি হামলায় ২টি বাস ও ৩টি ট্রাক ভাংচুর করে এবং একটি ট্রাক পাংচার করে মহাসড়ক অবরোধ করে। অপরদিকে দেবিদ্বারে পিকেটিং করার সময় জাহিদুল ইসলাম নামে এক শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) ঃ পিকেটাররা উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডে পন্থীছিলায় একটি কাভার্ডভ্যান ও নুনাছড়া এলাকায় একটি পিকআপে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। উখিয়া (কক্সবাজার) ঃ উখিয়া থানা পুলিশ পালংখালী থেকে ১টি দেশীয় তৈরি বন্দুক সহ একজন বহিরাগত শিবির ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে। এসময় অস্ত্র উদ্ধার করতে গিয়ে শিবির ক্যাডারের সাথে ধস্তাধস্তিকালে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পিরোজপুর অফিস ঃ যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামী রায়ের অপেক্ষায় থাকা জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নিজের এলাকা পিরোজপুরে হরতালের উল্লেখযোগ্য কোন প্রভাব পড়েনি। হরতালে যে কোন ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে গতকাল বৃহস্পতিবার সারা জেলায় ১৫ জন জামায়াত ও বিএনপি কর্মীকে আটক করা হয়েছে । হরতালে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ছিল। জেলা শহরসহ এর আশপাশের এলাকার দোকানপাট খোলা ছিলো। জেলার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দেশের কোথাও কোন বাস ছেড়ে না গেলেও রিক্সা, অটোরিক্সা ও টেম্পু চলাচল করে। নাসিরনগর সংবাদদাতা ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হরতাল পালিত হয়নি। এ উপজেলার জীবনযাত্রা অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিক ছিল। অফিস, ব্যাংক-বীমা, দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজ খোলা ছিল এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচল করেছে। হরতালে পক্ষে-বিপক্ষে কোন সভা-সমাবেশ করতে দেখা যায়নি। উপজেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ গতকালের হরতালে সাড়া মেলেনি। সকাল থেকেই শহরের সমস্ত দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অফিস-আদালত খোলা ছিল। ভারি কোন যানবাহন চলাচল না করলেও শহরময় চলেছে রিক্সা-সাইকেল। জামায়াত-বিএনপির কোন নেতাকর্মীকেই শহরে দেখা যায়নি। তবে খুব ভোরে শহরের গাছবাড়ি এলাকায় গুটিকয়েক জামায়াত নেতাকর্মী ২/১ মিনিটের একটি ঝটিকা মিছিল বের করে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা ঃ ছাতকে হরতাল পালিত হয়নি। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াত-শিবির পয়েন্ট এলাকা থেকে প্লাজা পর্যন্ত হরতালের সমর্থনে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। গতকাল সকাল থেকে জামায়াত-শিবিরের কোন নেতাকর্মীকে রাজপথে পিকেটিং বা মিছিল করতে দেখা যায়নি। দোকানপাঠ খোলা, ব্যাংক-বীমা ও অফিস অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক ছিল। স্কুল-কলেজ ছিল যথারীতি খোলা। তবে দূরপাল্লার কোন যানবাহন ছাতক থেকে ছেড়ে যায়নি। নেত্রকোনা প্রতিনিধি ঃ জামায়াতের ডাকা হরতাল নেত্রকোনার কোথাও পালিত হয়নি। সকাল থেকেই জেলা শহর ও উপজেলায় যানবাহন চলাচল ছিল বরাবরের মত স্বাভাবিক। দূরপাল্লার যানবাহনও চলাচল করেছে। স্কুল কলেজ ছিল খোলা। জামায়াতের কোন নেতাকর্মীকে হরতালের পক্ষে কোন প্রকার পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। বোদা (পঞ্চগড়) সংসাদদাতা ঃ বোদায় জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়নি। হরতালে পক্ষে বা বিপক্ষে কোন মিছিল মিটিং ও পিকেটিং দেখা যায়নি। বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেছে। এদিকে পঞ্চগড়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এলাকায় সাজ-সাজ রব পড়েছে। বোদা-দেবীগঞ্জ এশিয়ান হাইওয়ের রাস্তার দু’পাড়ে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধা দু’হাত তুলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।