এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’’অধ্যায় থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো।
‘ধনধান্য পুষ্পভরা’
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
‘সুন্দর গাছ; সুন্দর নদী, সুন্দর তার সব/ সুন্দর তার গাছের ডালে পাখির কলরব/ সুন্দর ঢেউ নদী ভরা চলে উজান ভাটি/ সুন্দর তার মানুষগুলো মাটির মতো খাঁটি/ চোখ মেলে তার আলোকরেখা কেউ দেখে যদি/সুন্দর এক স্বপ্ন তারে জড়ায় নিরবধি/ আকাশ হতে নেমে আসে অসীম নীলের কৃতি/সেই নীলেতে জড়িয়ে পড়ে বাঙালির সব প্রীতি/দু’হাত ভরে দান করেছেন স্বর্গ দিছেন যিনি/স্বর্গের চেয়েও সুন্দর যেনো বাংলার মুখখানি’।
ক) ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ মূলত কী জাতীয় লেখা।
খ) ‘স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা’— কথাটি ব্যাখ্যা করো।
গ) ‘উদ্দীপকের প্রকৃতি ও মানুষের’ চিত্র ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ) ‘উদ্দীপকের ও ধনধান্য পুষ্পভরা’ কবিতায় স্বদেশপ্রেমই মুখ্য—কথাটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক। ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ মূলত একটি গান।
উত্তর : খ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মায়াজালের মতো। তাই কবির চোখে এ সৌন্দর্য স্বপ্ন দিয়ে তৈরি আর স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
কবি মনে করেন, এই দেশ পৃথিবীর সকল দেশের সেরা। এ দেশের আকাশ-বাতাস, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত সবই অনুপম সৌন্দর্যের আকর। প্রকৃতির বিনম্র দান এখানকার চারপাশের সব উত্সকে সুন্দরে পরিণত করেছে। তাই এই স্বপ্নময় সুন্দর যেন কবির চোখে অনন্য হয়ে ধরা দেয়। তাই কবি মনে করেন এ দেশ স্বপ্ন দিয়ে তৈরি আর স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
উত্তর: গ। বাংলাদেশের অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মানুষ মিলে এ দেশটিকে স্বর্গের মতো সুন্দর হয়েছে, যা উদ্দীপকে ও কবিতায় সাদৃশ্য রূপ লাভ করেছে।
উদ্দীপকের কবিতায় আমরা এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে মানুষের গভীর মিতালি লক্ষ্য করি। মানুসের মন যেন সেসব সুন্দরের মতো পবিত্র। এক স্বাপ্নিক সত্যের মধ্যে প্রতিটি মানুষ যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মতো পবিত্র। কবির কাছেও এ সুন্দর এমনভাবে ধরা পড়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক অবারিত সৌন্দর্য এ দেশের জনজীবনকে জড়িত করেছে একই সূত্রে।
এ দেশের সবখানেই প্রকৃতির আশীর্বাদে নিবিষ্ট। এ দেশের আকাশ-বাতাস, প্রাণী সর্বোপরি প্রকৃতির সব উপাদানই যেন এই দেশটিকে সুন্দর করেছে। পৃথিবীতে এমন সৌন্দর্যের উত্স যেন বিরল। সব সুন্দরই যেন প্রাকৃতিক মুগ্ধতায় সজীব। ফুলে, ফলে সমৃদ্ধ বৃক্ষ শাখা, মৌমাছির গুঞ্জন, পাখির গান সবই যেন এ দেশের মানুষের মনকে পরিতৃপ্তি দেয়। উদ্দীপকেও আমরা দেখি এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মতোই এ দেশের মানুষ। তাই সুন্দরের আধার হিসেবে এ কবিতা যেন এক অনন্য রূপ ধারণ করেছে। স্বর্গের মতোই যেন এখানে প্রকৃতি ও মানুষ।
উত্তর: ঘ । দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ কবিতায় স্বদেশের সৌন্দর্য ও সবার চেয়ে সেরা বলে স্বদেশপ্রেমের হূদ্যতা প্রকাশ করেছেন, যা উদ্দীপকের কবিতার ভেতরেও আমরা খুঁজে পাই।
উদ্দীপকের কবিতায় দেখা যাচ্ছে দেশের প্রতি বিদগ্ধ ভালোবাসার নির্দশন। ঈশ্বরের অসীম দানে এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মানুষের অস্তিত্ব একই সুরে আবদ্ধ—ধনধান্য পুষ্পভরা কবিতায়ও দেশের প্রতি বিমুগ্ধ ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে।
‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ কবিতায় বাংলার চির সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক আবহ বিধৃত হয়েছে। পৃথিবীতে অনেক সৌন্দর্য প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দর হয়েছে; সেই সুন্দরের মধ্যে কবি তার স্বদেশকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বলে অভিহিত করেছেন এবং নির্দ্বিধায় বলেছেন ‘সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি’। উদ্দীপকের মধ্যেও ‘স্বর্গের চেয়েও সুন্দর যেনো বাংলার মুখখানি’—কথাটির মাধ্যমে স্বদেশের মাহাত্ম্য প্রকাশ পেয়েছে। স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা জ্ঞাপনই স্বদেশপ্রেম। উদ্দীপকের মধ্যে দেশের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সেখানেও দেশের গাছ-নদী-মাটি-মানুষকে অভিন্ন সত্তার মাধ্যমে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ প্রকাশ করে কবি স্বর্গের চেয়েও সুন্দর বলেছেন নিজ জন্মভূমিকে। তাই উভয় কবির কবিতায় স্বদেশপ্রেমের স্বাজাত্যবোধই প্রধান হয়ে দেখা দিয়েছে।
