মানুষের ধড় নিয়ে যাচ্ছে, প্রতি স্কুল থেকে ৫জন ছাত্রের ধড় নেয়া হবে এমন গুজবের ডালপালা ছড়িয়ে পড়ায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে গেছে। ফলে লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে পরিস্থিতির সত্যতা পাওয়া যায়। ইদিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম জানান, তার বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৯৫ থেকে ৭০ এ নেমে গেছে। যারা আসছে তারাও অভিভাবককে সাথে নিয়ে আসছে। মধুপুর পৌর এলাকার ১৩ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তঃক্রীড়ানুষ্ঠান ছিল গত বুধবার চাড়ালজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। সেখানেও ছেলে ধরা অথবা মাথা কেটে নেয়া পার্টির ভয়ে অংশগ্রহণকারীর অনেকেই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিল। গোপদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী জানান, ‘বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার অর্ধেকে নেমেছে। একই পরিস্থিতি জানালেন জটাবাড়ি পূর্ব, জটাবাড়ি পশ্চিম, কাকরাইদ এবং আড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা যতীন্দ্র মোহন মন্ডল। তিনি জানান, এটি ডাহা গুজব। এ গুজবে লেখাপড়া লাটে উঠছে। তবে গুজবে কান না দেয়ার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে ছেলে ধরার গুজবে প্রতিবন্ধীদের উপর নির্যাতন বেড়েছে। অচেনা মানসিক প্রতিবন্ধী কাউকে দেখলেই মানুষজন তার উপর হামলে পড়ছে। গত বুধবার আকালিয়াবাড়ি গ্রামে এক বৃদ্ধা মানসিক প্রতিবন্ধীকে ছেলে ধরা ভেবে জনতা মারপিট করে। মধুপুর থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি নিতান্তই গুজব। তারা গুজব সৃষ্টিকারীদের খুঁজছেন।
