সন্ত্রাসী হামলার কারণে পাকিস্তানের চার বছরের বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটাতে ক্রিকেট বিশ্বের প্রতি এক আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলংকা দল বহনকারী বাসে সশস্ত্র হামলায় ৮ পাকিস্তানী নিহত এবং লংকার ৭ খেলোয়াড় আহত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানে কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ হচ্ছে না। এখনো প্রায় প্রতিদিনই তালেবান ও আল কায়েদা সংশ্লিষ্টরা দেশটিতে সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা শংকায় গত এক বছরে বাংলাদেশ দল দু’বার তাদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে। এছাড়া আগামী ২৬ মার্চ শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান সুপারলীগ (পিএসএল) টি-২০ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অসরে অংশ না নিতে খেলোয়াড়দের আহ্বান জানিয়েছে ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন (ফিকা)।
সাবেক অধিনায়ক আফ্রিদি বলেন, ‘ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের কাতারের দেশ হওয়ার কারণে পাকিস্তান আজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং পাকিস্তানকে ভুগতে হচ্ছে।’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমরা মরণপণ চেষ্টা করছি এবং এজন্য সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু সেটা পাচ্ছি না।’
চার বছর যাবত্ নিজ মাঠের ম্যাচগুলো ইংল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে বাধ্য হচ্ছে পাকিস্তান। সরাসরি আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত দেশটির লাখ লাখ ক্রিকেট ভক্ত। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ও কার্যকর লেগ স্পিনার হিসাবে পরিচিত আফ্রিদি বলেন, ‘অসহযোগিতার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট এবং আমাদের এগিয়ে নিতে অবদান রাখার জন্য অন্য দেশগুলোর জন্য এটাই যথা সময়। আমাদের এক ঘরে করবেন না।’ পিএসএল-এ বিদেশি খেলোয়াড় আনতে ক্রিকেটীয় দেশগুলো এবং ফিকার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সহায়তা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আফ্রিদি বলেন, ‘প্রতিটি দেশ থেকে দু’জন করে খেলোয়াড় এলে আমরা খুব ভাল একটা লিগ আয়োজন করতে পারি এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে তাদের খেলোয়াড় পাঠানোর জন্য অনুরোধ করছি।’
‘অবশ্যই ফিকাকেও সহযোগিতা করতে হবে। পাকিস্তানের দরকার সহযোগিতা এবং একজন খেলোয়াড় যদি স্বেচ্ছায় আসে আমরা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। তারপরে তারা ঐ খেলোয়াড়কে থামাতে পারে না। আমাদের সহায়তা দেয়ার জন্য বিশ্ব ক্রিকেটের এটাই সঠিক সময়।’
বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও ভারতের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক চায় বলে জানান আফ্রিদি। ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সহযোগিতার কথা উল্লে¬খ করে আফ্রিদি বলেন, ‘পাকিস্তান বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিয়েছে। সেটা তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’ ভারতের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে আফ্রিদি বলেন, ‘ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সীমিত ওভার সিরিজ খেলতে আমরা ভারত সফর করেছি। যা থেকে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছে। এখন ভারতের উচিত আমাদের সাহায্য করা। সবচেয়ে বড় কথা এ দুই দেশকে কাছাকাছি আনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রিকেট।’
—বাসস
