বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের ৩০৬২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৬
বৃহস্পতিবার হরতাল চলাকালে ছুরিকাঘাত ও গুলিতে এক শিবির নেতাসহ ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বগুড়ায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও খুনিদের বিচারের দাবিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবির আজ শনিবার বগুড়া জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। নিহতদের লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে ৩ হাজার ৬২ জন জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীর নামে দুুটি মামলা দায়ের করেছে। নিহত শিবির নেতা রোহানীর ভগ্নিপতি হারুনুর রশীদ বাদী হয়ে একটি এবং নিহত ব্যবসায়ী মিজানের স্ত্রী হালিমা খাতুন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ দুটি মামলায় অজ্ঞাত ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তিনজন নিহত হওয়ার পর বগুড়া শহরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক র্যাব ও আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিন নেতাকর্মী হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির আজ শনিবার বগুড়া জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল সফল করতে জামায়াত ও শিবির কর্মীরা যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বলে বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি মাজেদুর রহমান জুয়েল জানিয়েছেন। আজকের হরতাল অতীতের যে কোন হরতালের চেয়ে আলাদা হবে বলেও তিনি জানান। বৃহস্পতিবার শহরতলী সাবগ্রামে নিহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের লাশ তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার উত্তর মানিকনগরে এবং জিমিরনগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুনের লাশ তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার আদর্শপাড়ায় এবং ছাত্রশিবির নেতা আবু রুহানীর লাশ বগুড়া সদরের এরুলিয়ায় নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। প্রতিটি জানাজা স্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। বগুড়ায় সমবেত হচ্ছে জামাত-শিবির বগুড়ায় আজ শনিবার জামায়াতের হরতাল পালনে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাটসহ আশপাশের জেলা থেকে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা বগুড়ায় আসতে শুরু করেছে। পুলিশের ব্যাপক প্রসু্ততি গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার নিহত নেতা-কর্মীদের গায়েবানা জানাজায় জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে বিভিন্ন জেলা থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা বাসযোগে বগুড়ায় আসতে শুরু করেন। বগুড়ায় সেন্ট্রাল মসজিদ, বড় মসজিদ, পার্ক মসজিদ, সাতানী মসজিদসহ শহরের বিভিন্ন মসজিদে তারা জুমার নামাজ আদায় করেন। তারা সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে গায়েবানা জানাজায় উপস্থিত হয়। বগুড়ায় জামায়াতের মুখপাত্র শহর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাজেদুর রহমান জুয়েল জানান, গায়েবানা জানাজায় বিভিন্ন জেলা থেকে মনের টানে নেতা-কর্মীরা এসেছিলেন। বগুড়ায় হরতালের জন্য বাইরের নেতা-কর্মীদের প্রয়োজন নেই। বগুড়ায় জামায়াত-শিবির অত্যন্ত সুসংগঠিত। পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, শনিবারের হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালন করলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ভাংচুর কিংবা বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করা হয় তাহলে ছাড় দেয়া হবে না।