বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক প্যাস্কেল লামি চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য একটি ভালো স্থান উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে অধিকতর অবদান রেখে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর বহু অঞ্চলে যাতায়াত সুবিধাবিহীন অনেক ‘ল্যান্ডলক’ দেশ রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঐ ধরনের দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এক্ষেত্রে ব্যয়-বাহুল্যকে অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে।
তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে এ অঞ্চলের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যভুক্ত যেসব দেশ রয়েছে তাদের সম্মেলনে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি গতকাল শুক্রবার হোটেল আগ্রাবাদের ইছামতি হলে চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিযুক্ত তুরস্কের অনারারি কনসাল সালাহউদ্দিন কাশেম খান, সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আলমগীর মো. সিরাজউদ্দিন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ চক্রবর্তী প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম, পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহীম।
ডব্লিউটিও’র মহাপরিচালক প্যাস্কেল লামি বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্নত-অনুন্নত দেশসমূহের মধ্যে নানা ধরনের সমীকরণ সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার অর্থনীতিতে এ খাত থেকে সুফল পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এ সম্ভাবনাকে আরো বেগবান করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৬০ শতাংশ পণ্যই আনফিনিশড। এসব পণ্য পরিবহনে ল্যান্ডলক বা সমুদ্র থেকে দূরবর্তী দেশগুলোকে অত্যধিক ব্যয়ে ও নানাবিধ জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা চায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার মধ্যদিয়ে সুবিধাভোগী এবং সুবিধাহীন দেশগুলোর বাণিজ্যের খরচ কমাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করুক।
