প্রথম দিনেই জমজমাট মেলা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
বইমেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে যেতেই বাঁধ ভাঙা স্রোতের মত লোকজন ছড়িয়ে পড়লো বইমেলায়। যেন নিষ্প্রাণ মেলায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা পেল। কিন্তু কোনবার যা হয় না এবার প্রথম দিনেই মেলায় বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। প্রকাশকদের মুখে হাসি। প্রতিবছর মেলা জমে উঠতে সপ্তাহ, দশদিন সময় লাগে। সেখানে এবছর প্রথম দিনেই পাঠকের উপস্থিতিতে আশান্বিত তারা। আর প্রথম দিনই শুক্রবার হওয়ায় বইমেলায় উপস্থিতির মাত্রা প্রত্যাশা ছাপিয়ে যায়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে একাডেমী প্রাঙ্গণে প্রাণের এ বই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একাডেমী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইমেরিটাস আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মেলার প্রথম দিন তাই এখনো চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে প্রস্তুতির চিহ্ন —কাঠ, বাঁশ প্রভৃতি। ছিল ধুলোয় ধূসর। কিন্তু এ সব কিছু ছাপিয়ে পাঠকের বইয়ের প্রতি আগ্রহই বেশি দেখা গেল। স্টলে স্টলে গিয়ে পাঠকরা নেড়েচেড়ে দেখছেন বই। প্রথম দিনেই মেলায় এসেছে স্বনামধন্য লেখকদের বেশকিছু বই। অনেকে খোঁজ করছেন তার প্রিয় লেখকটির বই এসেছে কি না। প্রথম দিনেই প্রিয় লেখকের বইটি হাতে পাওয়ার আগ্রহ। লেখকের নতুন বইয়ের মন মাতানো ঘ্রাণ বুকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন পাঠকরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপেক্ষিত হুমায়ূন আহমেদ জননন্দিত লেখক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের জন্য শোকের ছায়া ছিল মেলাজুড়ে। হুমায়ূনের ছবি ও তাকে উত্সর্গ করে লেখা কবিতার লাইন জানান দিচ্ছিল এবার প্রিয় লেখকের পদচিহ্ন পড়বে না মেলায়। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিল এবারের মেলা প্রিয় লেখকের নামে উত্সর্গ করা হবে। তবে গতকাল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হুমায়ূন আহমেদের নাম উচ্চারণ করলো না কেউ। বিষয়টি নিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। তারা বলেন, মেলা যার নামে উত্সর্গিত হয়েছে, তার নাম অবশ্যই উচ্চারিত হওয়া উচিত ছিল। এই উপেক্ষা কষ্ট দিয়েছে হুমায়ূন ভক্তদের। এ প্রসঙ্গে অন্যপ্রকাশের অন্যতম স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে যে ব্যক্তি অসামান্য অবদান রেখেছেন তাকে মেলা উত্সর্গ করা হলেও উদ্বোধনী পর্বে তাকে স্মরণ না করায় আমরা যার স্নেহধন্য তাকে কষ্ট দিয়েছে।’ বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ অবশ্য পরে একে ভুলবশত বলে পাশ কাটাতে চেয়েছে। একাডেমীর সমন্বয় ও জনসংযোগ উপ-বিভাগের উপ-পরিচালক মুর্শিদ আনোয়ার বলেন, ‘উদ্বোধনী আয়োজনে ভুলবশত হুমায়ূন আহমেদের নাম বলা হয়নি। তবে, মেলার আগে আমরা এ বিষয়ে সকলকে অবহিত করেছি।’ প্রকাশকদের মুখে হাসি অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন নাথ বললেন, ‘এবার প্রকাশকদের মেলা হওয়ায় পাঠক-প্রকাশক সবার জন্যই খুব ভালো মেলা হবে। প্রথম দিনই এর রেশ পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রি বেশ ভালো।’ মাওলা ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক অনূপ দত্ত বললেন, ‘দোকান খুলতে না খুলতেই বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।’ সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বলেন, পাঠকদের জন্যে তো বটেই এমনকি প্রকাশকদের জন্য এবারের মেলা ভালো হবে। বই কিনতে এসে বাইরে রাস্তা থেকে পাঠকরা পাইরেটেড বই কিনে বঞ্চিত হবেন না। তারা মেলায় ঘুরে মূল প্রকাশকদের কাছ থেকে বই কিনতে পারবেন। নতুন বই মেলায় গতকালই নতুন বই চলে এসেছে। কথাপ্রকাশ এনেছে নির্মলেন্দু গুণের ‘মহাজীবনের কাব্য’, মাওলা ব্রাদার্স এনেছে বেবী মওদুদ ও শেখ রেহানা সম্পাদিত গ্রন্থ ‘প্রিয় রবীন্দ্রনাথ’ মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘গাব্বু’, অনুপম প্রকাশনী এনেছে যতীন সরকারের ‘যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক ও বাংলাদেশের উপন্যাস’, অ্যাডর্ন এনেছে শিরীন আখতারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘নারী রাজনীতি ও রাষ্ট্র’, উপমহাদেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ আবুল হাশিমের অনুবাদগ্রন্থ ‘আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি’, রোদেলা এনেছে মামুনুর রশীদের জীবনস্মৃতি ‘জীবনের সাইকেল’, আহসান হাবীবের রম্যগ্রন্থ ‘১২/১২/১২’। এছাড়াও অন্যপ্রকাশ থেকে হুমায়ূন আহমেদের ‘ভ্রমণসমগ্র’, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সম্পাদিত ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মারকগ্রন্থ’, হুমায়ূন আহমেদের দুইটি বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করেছে। শুদ্ধস্বর থেকে প্রকাশ পেয়েছে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সম্পাদিত গবেষণাগ্রন্থ ‘মোতাহের হোসেন চৌধুরী’, আল মাহমুদের ‘সনেটসমগ্র’, সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যগ্রন্থ ‘যদি পাই পুনরাবৃত্তি’ উল্লেখ্যযোগ্য। আগামী প্রকাশনী থেকে তসলিমা নাসরিনের ‘নারীর কোন দেশ নেই’, হাসনাত আবদুল হাইয়ের উপন্যাস ‘ইউটোপিয়া’ ও সৈয়দ আবুল মকসুদের ‘ভাসানী কাহিনী’। মেলামঞ্চে আজ আজ শনিবার মেলার মূল মঞ্চে থাকছে ‘অমিত সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। আলোচনা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরাসউদ্দিন, বর্তমান গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ ও প্রাবন্ধিক মাসুদা ভাট্টি।