আধিপত্য বিস্তার এবং একই স্থানে দুই গ্রুপের মিটিং-মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রভাবশালী দুই নেতা ফিরোজ হায়দার গ্রুপ ও শাহআলম গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। বিএনপির এক গ্রুপ অপর গ্রুপের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই হাটুভাংগা শিল্পাঞ্চলে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ এড়াতে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, বিকেলে গোড়াই ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকায় বিএনপির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সদস্য এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচা শিশু-শিল্পী গোষ্ঠীর সহ-সভাপতি ফিরোজ হায়দার খানের শ্রমিক দলের কর্মীসভা ছিল । এই অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি ছিলেন ফিরোজ হায়দার খান। এই অনুষ্ঠানের খবর শুনে গোড়াই ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি শাহ আলম একই এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির পরিচিতি সভা ডাকেন। বিকেল চারটার দিকে ফিরোজ হায়দারের লোকজন ৫০/৬০টি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে সোহাড়পাড়া এলাকার দিকে এলে শাহ আলমের লোকজন তাদের উপর হামলা চালায় বলে ফিরোজ হায়দার অভিযোগ করেন। কর্মী সমর্থকরা বিএনপি নেতা শাহ আলমের অফিসে হামলা, ভাংচুর করে।
শাহ আলমের নেতৃত্বে কয়েক নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ফিরোজ হায়দারের লোকজনের উপর হামলা এবং বিএনপি অফিস দখলের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ফিরোজ হায়দারের কয়েক শতাধিক কর্মী সমর্থক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। গোড়াই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ চালায়। এ সময় এ রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
