ঘূর্ণিঝড় ফণী থেকে জানমাল রক্ষায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নৌ-বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। ফেরি-নৌরুট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপকূলে বসবাসকারী সকল মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় সব জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার অনুষ্ঠেয় এইচএসসির পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সচিবরা এতে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল পৃথকভাবে উপকূলীয় জেলার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ফোকাল পয়েন্ট ও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তাঁবু, শুকনা খাবার, চিড়া, গুড়, মুড়ি, চাল, ডাল, দিয়াশলাই, পিঁয়াজ, লবণ, তেল, খাবার পানির মজুত তৈরি করা হয়েছে উপকূলে।
আজ সকালে শুরু করে সন্ধ্যার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনার কার্যক্রম শেষ করা হবে বলে গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল বলেন, লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার পর সেখানে (ওইসব অঞ্চলে) পাহারা রাখা হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও পাহারার ব্যবস্থা করা হবে। ১৯ উপকূলীয় জেলায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে তারা মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসবে। তিন হাজার ৮৬৮টি আশ্রয়কেন্দ্রের বেশিরভাগই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ পুরো বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগে সবাইকে এ বিষয়ে জানাতে বিদ্যুত্ এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। তাহলে মানুষ নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিতে পারবে। এদিকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে। এর টেলিফোন নম্বর ০২-৯৫৪৬০৭২। পানি উন্নয়ন বোর্ডও ফণী মোকাবিলায় নানা প্রস্তুতি নিয়েছে।
বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস বন্ধ রাখার নির্দেশ: বন্দরে বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত বড় জাহাজগুলোতে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রাখার পাশাপাশি বন্দর জেটি এলাকার জাহাজগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
