সামাজিক মাধ্যম থেকে শত হাত দূরে থাকতো হানসিকা

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ২৩:২৬

আজকাল বেশিরভাগ মানুষই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত থাকে। তরুণ প্রজন্মও পিছিয়ে নেই। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারা দিন মাথা গুঁজে বসে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত এসব কোমলমতি শিশু কিশোররা মনে করে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এর ঠিক উল্টো পথে হেঁটেছে ভারতের হানসিকা শুক্লা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগও ছিল না তার। ফলাফল হিসেবে এ বছর ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের সম্মিলিত মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে হানসিকা।

৫০০ নম্বরের মধ্যে হানসিকার মোট নম্বর ৪৯৯। ইতিহাস, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং হিন্দুস্তানি ভোকাল এই চার বিষয়ের সবকয়টিতেই ১০০ তে ১০০ পেয়েছে। শুধু ইংরেজিতে ৯৯ পেয়েছে হানসিকা। ভালো ফলাফলের মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষকদের মুখ উজ্জ্বল করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত সে। তার লেখাপড়ার সাহায্যের জন্য বাড়িতে কোনো গৃহশিক্ষকও ছিল না। সম্পূর্ণ নিজের পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের জোরে অনন্য এই কীর্তি গড়েছে সে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় সে। স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যতে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরে চাকরি করার। প্রথম হওয়ার অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে হানসিকা জানায়, ফল ঘোষণার দিন সে বাড়িতেই ছিল। তার বাবা তাকে ফোন দিলেও ধরতে পারেনি। এরপর মায়ের থেকে জানতে পারে যে, সে ভারতের সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছে। ফলাফলের কথা শুনে নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল তার কাছে। ডিপিএস গাজিয়াবাদ কলেজের ছাত্রী হানসিকা। তার মা গাজিয়াবাদের একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং বাবা রাজ্যসভার একজন সচিব।

হানসিকার শিক্ষক অভিলাষ বলেন, সে ক্লাসে খুবই পরিশ্রমী ছাত্রী ছিল। তার এই ফলাফল আমাদের মুগ্ধ করলেও অবাক করেনি। স্কুলের পরীক্ষাগুলোতেও সে নিয়মিতভাবে ভালো ফলাফল করতো। সে খুব নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে চলাফেরা করে। সে যে ভালো ফলাফল করবে তা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। হানসিকার প্রিয় বিষয়ের একটি ইতিহাস। লেখাপড়ার মধ্যে ডুবে থাকতেই বেশি ভালো লাগতো তার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতটা সময় কাটাতো সে সম্পর্কে হানসিকা জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি একেবারেই সক্রিয় থাকতাম না। যখনই ক্লান্তি কিংবা বিষণ্নতা আসতো আমি বসে বসে বই পড়তাম অথবা গান শুনতাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চেয়ে বই পড়তে কিংবা গান শুনতেই বেশি ভালো লাগে। -হিন্দুস্তান টাইমস