ফসলের শত্রু পাতা ফড়িং

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৭
পূর্ণবয়স্ক জ্যাসিড বা সবুজ পাতা ফড়িং লম্বায় ২.৫ থেকে ৩ মিলিমিটার। এরা সাধারণত পাতার নিচের দিকে থাকে। শরীরের রঙ হলুদাভ সবুজ। স্ত্রী পোকা কচি পাতার নিচে ছিদ্র করে ১২ থেকে ১৫ টি ডিম পাড়ে। ৪ থেকে ১১ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে নিমফ বা বাচ্চা বের হয়। নিমফ ও পূর্ণবয়স্ক পোকা দেখতে একই রকম হলেও নিমফের পাখা বেশ ছোট। পুরোপুরি বৃদ্ধি প্রাপ্ত নয়। নিমফ ৭ থেকে ২১ দিনের মধ্যে ৬ বার খোলস বদলানোর মাধ্যমে পূর্ণবয়স্ক পোকায় পরিণত হয়। পূর্ণবয়স্ক পোকা ৫ থেকে ৭ সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচে। এভাবে বছরে ৭ বার বংশবিস্তার করে। নিমফ ও পূর্ণবয়স্ক পোকা উভয়ই পাতার রস চুষে খায়। এতে পাতা সাদাটে, হলদে বা লালচে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রায় গোল দাগ দেখা যায়। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কখনো কখনো পাতা কুঁকড়িয়ে বা শুকিয়ে যায়। তখন ফলন অনেক কমে যায়। চারা গাছ থেকে শুরু করে বাড়ন্ত ও ফলন্ত গাছে এরা আক্রমণ করে। পাতা ফড়িং ক্ষেতে প্রায় সারা বছরই দেখা যায়। শীতে এদের বংশবিস্তার কম হয় বলে আক্রমণের প্রকোপও কম হয়। কিন্তু শীতের শেষে গরম পড়ার সাথে সাথে এদের বংশ বৃদ্ধি দ্রুত হতে থাকে এবং সময়মত নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়েই আক্রমণের মাত্রা বেশ তীব্র থাকে। আলু, বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়শ, কুমড়া জাতীয় সবজি ছাড়াও তুলা, অড়হড় ফসলে আক্রমণ করে থাকে। এ পোকা হলুদ মোজাইক ও পাতা কোঁকড়ানো ভাইরাস রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। তাই এই সব ফসল পাশাপাশি চাষ না করাই ভাল। তাতে বিকল্প আশ্রয়দানকারী গাছের অভাবে এদের সংখ্যা এমনিতেই কমে যায়, যে অবস্থায় এরা ফসলের খুব একটা ক্ষতি করতে পারে না। হাত জালের সাহায্যে জ্যাসিড সংগ্রহ করে ও মেরে ফেলে ক্ষেতে এদের সংখ্যা কমানো যায়। যদি ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানের ৫০ টি গাছের ভেতরের ও মধ্যভাগের ২ টি করে পাতায় গড়ে ১ টি বা তার বেশি জ্যাসিড দেখা যায় তাহলে কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করতে হয়। এক্ষেত্রে ডাইমেথোয়েট বা ক্লোরপাইরিফস বা ইমিডাক্লোরপিড জাতীয় কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হয়। লেখক:উদ্যান বিশেষজ্ঞ, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর, রংপুর অঞ্চল, রংপুর