হাল আমলে বিশ্বের বড় বড় প্রায় সবগুলো ব্র্যান্ডই সোশ্যাল মিডিয়া তথা সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে তাদের উপস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে। বিশেষ করে ক্রেতাদের কাছে সহজে পৌঁছানোর জন্য এবং প্রয়োজনীয় নানা বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইদানীং প্রায় সব নামকরা ব্র্যান্ডকেই নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের পাশাপাশি আস্থা রাখতে হচ্ছে ফেসবুক বা টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে তৈরি করা নিজেদের পেজের উপর। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মুহূর্তের মাঝে সবার কাছে পৌঁছে যাওয়ার এই সুবিধাটাই এবার উল্টো অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে ব্রিটেনের বহুজাতিক এন্টারটেইনমেন্ট রিটেইলিং কোম্পানি এইচএমভি’র জন্য। অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক মন্দার কারণে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি এর ১৯০ জন কর্মকর্তাকে ছাটাই করলে প্রতিশোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট দখল করে নেয় বরখাস্ত হওয়া এই কর্মীরা। আর এর পরই একে একে আসতে থাকে প্রতিষ্ঠানকে লজ্জায় ফেলে দেওয়া সব টুইট। এর মধ্যে হ্যাক হওয়া টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম যে টুইট বার্তাটি প্রকাশ করা হয় তাতে লেখা ছিল, ‘চমত্কার। আমরা এইচআর থেকে সরাসরি টুইট করছি যেখানে আমাদের সবাইকেই বরখাস্ত করা হয়েছে।’ এরপর একে একে প্রকাশিত অন্যান্য বার্তায় লেখা হতে থাকে, ‘আমাদের প্রায় ৬০ জনকে একসাথে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর এই গণছাটাইয়ের শিকার হয়েছেন সেইসব কর্মীরা যারা এই ব্র্যান্ডটিকে (এইচএমভি) ভালোবাসতেন।’ ‘আমরা এতদিন কোনো কথা বা কোনো সত্য প্রকাশ করিনি কারণ চুক্তি অনুযায়ী তা করা বারণ ছিল।’ এরই মাঝে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যে কীভাবে টুইটার ফিড বন্ধ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছেন সেই ব্যাঙ্গাত্মক কথাও আসে এইচএমভির অফিসিয়াল টুইটার ফিডে। এভাবে প্রায় ১৫ মিনিটে একাধিক টুইট অনুসারীদের মাঝে ছড়িয়ে যাওয়ার পর টুইটারের দখল পুনরায় হাতে নিতে সক্ষম হন এইচএমভি’র কর্মকর্তারা। এ সময় আপত্তিকর সব টুইট সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের ছাটাই করার বিষয়টিও স্বীকার করে নেওয়া হয়। যদিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এইসব টুইটের কারণে গোটা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়েছে এইচএমভি’র গণছাটাইয়ের বিষয়টি। উলে¬খ্য, গত ১৫ জানুয়ারি শীর্ষ পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া নতুন কর্মকর্তারা এইচএমভিকে ব্যবসায়িক মন্দা থেকে বাঁচানোর প্রথম উদ্যোগ হিসেবে এই ছাটাই শুরু করেছেন। আর গোটা পৃথিবীতে ২২৩টির মতো স্টোরে এইচএমভি’র বর্তমান কর্মী সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি।
