গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সামপ্রতিককালে যে সামান্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে সেক্ষেত্রে মুদ্রানীতির সংশ্লিষ্টতা দাবি করার যথার্থতা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম হ্রাস ও দেশীয় খাদ্য উত্পাদন বাড়ার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হারও কমে এসেছে। তাছাড়া এখনও সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশই রয়ে গেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।
উন্নয়ন অন্বেষণের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমান মুদ্রানীতিকে ভারসাম্য মুদ্রানীতি বলে অভিহিত করেছে। বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হলেও এই নিয়ে পর পর চার বার সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হলো। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির গতি নিম্নমুখী, বিনিয়োগে মন্দাবস্থা, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাসপ্রাপ্তি, রপ্তানির লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া, টাকার মান কমে যাওয়া এবং অদূরদর্শী রাজস্বনীতির ব্যবস্থাপনা বিরাজমান তখন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির যৌক্তিকতা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কারণ দেশের অর্থনীতি যখন বড় হতে যাচ্ছে সেই মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নেয়ায় অর্থনীতি সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে এ ধরনের মুদ্রানীতি সাম্প্রতিককালের অর্থনৈতিক মৌল চ্যালেঞ্জগুলো যেমন প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখিতা, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক খাতে অভারসাম্য অব্যাহত রাখবে।
