এসপি, ওসিসহ চার পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ২৩:৩২

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত টিম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন গত বুধবার পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতিবেদন জমা দেন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই প্রতিবেদন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

 তদন্ত সূত্র জানায়, প্রতিবেদনে ফেনীর পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন, এসআই ইকবাল ও এসআই ইউসুফের গাফিলতি পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিকেএম এনামুল করিমের বিরুদ্ধেও দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

অপরদিকে অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কনস্টেবল রাসেলের ভূমিকাকে সাহসীপূর্ণ কাজ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তির ব্যাপারেও সুপারিশ করা হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড ও বিভাগীয় ব্যবস্থা, এসআই ইউসুফকে বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং এসআই ইকবালকে সাসপেন্ড ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিকেএম এনামুল করিমের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রতিবেদনে পুলিশের কনস্টেবল রাসেলের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে রাসেল কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এজন্য তার হাত পুড়ে গেছে। দ্রুত নুসরাতকে হাসপাতালে নেওয়া না হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যেতেন। ঘটনার সময় মাদ্রাসার গেটে একজন এসআইর নেতৃত্বে রাসেলসহ তিন কনস্টেবল দায়িত্বরত ছিলেন। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অন্যরা কেউ এগিয়ে আসেননি।

সূত্র জানায়, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টিকে অবহেলার চোখে দেখেছেন সেখানে কনস্টেবল রাসেল পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 প্রতিবেদনের ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন বলেন, সম্পূর্ণ চাপমুক্ত থেকে তারা তদন্ত করেছেন। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কারও নামই বাদ দেওয়া হয়নি। পুলিশ প্রশাসনের চার সদস্য এবং প্রশাসনের একজনের কথা বলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।

তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগেই তদন্ত কমিটির প্রধান এস এম রুহুল আমিনকে ডিআইজি মিডিয়া বিভাগ থেকে পুলিশ সদর দফতরের অন্য শাখায় বদলি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, এস এম রুহুল আমিনের বদলি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই। তিনি ২৫ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরের মানব সম্পদ বিভাগে বদলি হয়েছেন। তবে তিনি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন ৩০ এপ্রিল রাতে।

 আইজিপির নির্দেশেই গত ১৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (মিডিয়া) রুহুল আমিনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ তদন্ত টিমের অপর সদস্যরা হচ্ছেন সিআইডি চট্টগ্রাম রেঞ্জের একজন বিশেষ পুলিশ সুপার, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সদর দফতরের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন পরিদর্শক।