ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে। গত এক দশকের মধ্যে যতগুলো ঘূর্ণিঝড় হয়েছে তার মধ্যে এটা অন্যতম ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হতে পারে। ফণীর আগে আরো বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ঝড় বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে ১৯৭০ সালের গোর্কি ও ১৯৯১ সালের ম্যারিএন ঝড় অন্যতম। এই দুইটি ঝড়ে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল অনেক। নিহতদের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ জলোচ্ছ্বাসে ডুবে মারা যায়। ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে গোর্কি আঘাত হানে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত দশ বছরে দেশে মোট পাঁচটি বড় ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ‘মোরা’। ২০১৭ সালের ৩০ মে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হেনেছিল। গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর। এর গতিবেগ ছিলো ২৬০ কিলোমিটার। ২০০৯ সালে ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আঘাত হানে। ঝড়টির ব্যাস ছিল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, যা ঘূর্ণিঝড় সিডরের থেকে ৫০ কিলোমিটার বেশি। সিডরের মতোই আইলা দীর্ঘ সময় নিয়ে উপকূল অতিক্রম করেছিলো। ২০১৬ সালের ২১ মে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আঘাত হানে। গতিবেগ ছিল ১২৮ কিলোমিটার। ২০১৩ সালের ১৬ মে আসে মহাসেন, যার গতি ছিল ১০০ কিলোমিটার। ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই আসে কামেন। এর গতি ছিল ৬৫ কিলোমিটার। ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানে আইলা। গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। ঝড়ের শক্তি বোঝা যায় বাতাসের গতি দিয়ে। সেই হিসাবে ফণী ভারতে আঘাত হেনে বাংলাদেশে আসলে এর গতি কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
