শিবির-পুলিশ সংঘর্ষে চাষাঢ়া রণক্ষেত্র

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৪
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্র শিবির কর্মীদের হামলায় ৪ পুলিশ আহত হয়েছে। পুলিশ শিবির কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ শিবির কর্মী আহত হয়। আহত পুলিশের মধ্যে একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭/৮ জন শিবির কর্মী আহত হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এদিকে শিবিরের হামলার পর প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পাগলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো চাষাঢ়া এলাকায়। ওই সময়ে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টকে শিবির কর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রায় ২শ থেকে ৩শ শিবির কর্মী জড়ো হয়। এ সময় শহীদ মিনারে টহল পুলিশ ছিল মাত্র ১০ থেকে ১২ জন। সকাল ১০টায় নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে শহীদ মিনারে টহলরত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক আবু জাফরের নেতৃত্বাধীন পুলিশ শিবিরের নেতাকর্মীদের জড়ো না হওয়ার জন্য বলেন। এ নিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে শিবির কর্মীরা এএসআই জাফরকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক লাঠিপেটা করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশের আরো কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে আসলে শুরু হয় উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শিবির ক্যাডারদের লক্ষ্য করে ২৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। বেলা সোয়া ১০টা থেকে ২০ মিনিট ধরে চাষাঢ়া এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের গুলিতে শিবিরের ৭/৮ কর্মী আহত হয়। শিবির কর্মীরা এএসআই জাফর ছাড়াও কনস্টেবল আমিনুল, আবদুল আলিম ও মামুনকে প্রচণ্ড প্রহার করে। সংঘর্ষের সময়ে চাষাঢ়া গোলচত্বর এলাকাতে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহতদের রিকশায় করে চলে যেতে দেখা গেছে। তবে শহরের কোনো হাসপাতালে আহত শিবির কর্মীদের পাঠানো হয়নি। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি এসএম মঞ্জুর কাদের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই পুলিশের উপর হামলা চালায় শিবির। হামলার জবাবে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে শিবিরের ৭/৮ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয় বলে ওসি দাবি করেন।