গৃহপরিচারিকা খাদিজা পেল জিপিএ-৫

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:০৩
বিদ্রূপকে উপেক্ষা করে আর কঠোর ইচ্ছাশক্তির বলে বলীয়ান হয়ে অন্যের বাড়ির আশ্রিতা অদম্য মেধাবী খাদিজা ২০১২ সালের প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। এত ভাল ফলাফল করার পরেও খাদিজা স্বাচ্ছন্দ্যে গৃহপরিচারিকার কাজ করে যাচ্ছে। এতে তার কোন লজ্জা বা কুণ্ঠাবোধ নেই। বাউফলের সাবেক ইউপি সদস্য শাহ্ আলম ও তার স্ত্রী শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা বকুল ৬ বছর বয়সে খাদিজাকে তাদের বাড়ি নিয়ে আসেন। তারা জানান, শুরু থেকেই খাদিজার লেখাপড়ার প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ। খাদিজার এই ইচ্ছা দেখে তাকে চেয়ারম্যান দম্পতি তাদের নিজেদের স্কুলে ভর্তি করে দেন। এভাবেই চলতে থাকে খাদিজার লড়াই। খাদিজার বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। চার ভাই-বোন আর মা-বাবাকে নিয়ে তার সংসার। খাদিজা জানায়, বাবা আলি মুন্সি ও মা সাফিয়া বেগম ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করছে এবং বোনেরা গার্মেন্টসে কাজ করছে। গৃহকর্তা শাহ্ আলম ও স্ত্রী শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা জানান, খাদিজা অনেক মেধাবী মেয়ে। নিজের সন্তানের মতো করে তার যত্ন নেন তারা এবং তার পড়ালেখায় সহযোগিতা করেন। সে যতদিন চায় এখানে থেকে পড়ালেখা করবে, ততদিন তারা তাকে সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতা করবেন বলেও জানান। খাদিজার ইচ্ছা সমাজসেবার মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করবে।