মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন কি রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি টানছেন? দেশটির সাবেক এই ফাস্ট লেডি গত শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি বিশ্বে আলোচনায় আছেন। যখন তার স্বামী বিল ক্লিনটন ১৯৯২ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। বিশ্ব জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গালপের এক জরিপে দেখা যায় আমেরিকানরা তাকে নারী হিসেবে নির্বাচিত করেছে ১৭ বার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি দেশ ভ্রমণরে ক্ষেত্রেও তিনি রেকর্ড করেছেন। এক জরিপে দেখা গেছে, তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিদায় নেয়ার সময় ৭০ শতাংশ নাগরিক তাকে সমর্থন করেছে। যা ১৯৪৮ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। একমাত্র কলিন পাওয়েল ব্যতিক্রম। প্রেসিডেন্ট ওবামা তাকে দেশের সবচেয়ে সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আখ্যায়িত করেছেন। বিল ক্লিনটনের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। উচ্চশিক্ষিত হিলারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ সময় তার সমালোচনা হলেও তা ধোপে টেকেনি। তবে তিনি ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চেষ্টা করলেও ওবামার কাছে হেরে যান। ১৯৪৭ সালে শিকাগোতে জন্ম নেয়া ইয়েল ল কলেজে থাকার সময় বিল ক্লিনটনের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং সেই পরিচয় এক সময় ১৯৭৫ সালে বিয়েতে রূপ নেয়।
১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার তাকে লিগ্যাল সার্ভিস করপোরেশন বোর্ডে নিয়োগ দেয়। ২০০০ সালে নিউইয়র্কের সিনেটর নির্বাচিত। ২০০৬ সালে আবারো সিনেটর পদে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য লড়াই করলেও বারাক ওবামার কাছে হেরে যান। ২০০৮ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১২ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তার বলার দক্ষতা এবং মানুষের সঙ্গে তার ব্যবহার এবং তাদের প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তার ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। হিলারির সঙ্গে কাজ করছেন তার বন্ধু লিসা মাসকেতিন। তিনি বলেন, হিলারি আগেই চিন্তা করতেন কোনো কাজে তিনি জয়ী হলে প্রতিক্রিয়া কি হবে এবং হারলে কেমন প্রতিক্রিয়া হবে এবং সেক্ষেত্রে তার কী করা উচিত। তার মতে হিলারি খু্বই আশাবাদী। সামনের বিষয়টি ভাবেন এমন মানুষের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। তিনি বলেন, হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর তার ফার্স্ব লেডি থাকাটা অনেক ভূমিকা রেখেছে্। কারণ ফার্স্ট লেডি থাকার সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন জানিয়েছে, হিলারি ভ্রমণে ব্যয় করেছেন ২ হাজার ৮৪ ঘন্টা দশমিক ২১ ঘন্টা, যা ৮৬ দশমিক ৮ দিনের সমান। দূরত্বের দিক থেকে তিনি অতিক্রম করেছেন ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭ শত ৩৩ মাইল। তিনি এখন তারকায় পরিণত হয়েছেন।
