সমপ্রসারিত হচ্ছে সেবাখাত। মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) শিল্পের সাথে সেবাখাতের অবদানও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বর্তমানে জিডিপির প্রায় ৫০ শতাংশই সেবাখাত থেকে আসে। অন্যদিকে কৃষির অবদান ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অতীতে যেখানে শিল্পের অবদান ছিল মাত্র ১৫ ভাগ, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ ভাগ। অর্থনীতিতে সেবাখাতের ক্রমবর্ধমান অবদানের প্রেক্ষিতে কয়েকটি অগ্রসর ও নতুন সেবাখাত যেমন, ডেকোরেটর সার্ভিস, সিকিউরিটি সার্ভিস বা নিরাপত্তা সেবা, ক্লিনিং সার্ভিস বা পরিচ্ছন্নতা সেবা এবং রিক্রুটিং এজেন্সি সার্ভিস বা জনশক্তি রপ্তানি সেবাখাতের বিষয়ে জরিপ পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উদ্যোগে প্রথমবারের মত দেশব্যাপী জরিপ পরিচালনা করা হয়। এর প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, এসকল খাতের আয় অর্থনীতিতে যোগ করা হলে এ খাতের জিডিপি বাড়বে প্রায় ৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এবং মোট জিডিপি বাড়বে প্রায় দশমিক ৫২ শতাংশ। এ বিষয়ে বিবিএস-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দেশে নতুন নতুন সেবাখাত সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সেবাখাত জাতীয় আয়ে কী পরিমাণ অবদান রাখছে তা নিরূপণ করতেই এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।
২০১১-২০১২ অর্থবছরে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবাখাতের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯.৫২ শতাংশ, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিলো ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ খাতের তিনটি উপ-খাতের মধ্যে দুটি উপ-খাতের প্রবৃদ্ধির হার পূর্ববতী অর্থবছরের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। রিয়েল এস্টেট, ভাড়া ও অন্যান্য ব্যবসাখাতের প্রবৃদ্ধির হার এ বছর ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ছিলো ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। সেবাখাতের অন্তর্ভুক্ত অবশিষ্ট খাতসমূহের মধ্যে লোকপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকর্ম এবং কমিউনিটি, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সেবাখাতের প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৬ দশমিক শূন্য ৭শতাংশ, ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্যান্য সেবাখাতের অবদানও বাড়ছে, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ২০১১-১২ অর্থবছরে সার্বিক সেবা খাতের মধ্যে আর্থিক প্রাতিষ্ঠানিক সেবাখাত ও পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য খাত অন্য সকল খাতের প্রবৃদ্ধির হার পূর্ববতী অর্থবছরের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। সাময়িক হিসেব অনুযায়ী, পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য খাতের প্রবৃদ্ধির হার পূর্ববর্তী অর্থবছরের (৬.৩১) থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে প্রবৃদ্ধির হার পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় (৭.৫৫ শতাংশের) একই থাকবে (৭.৬০ শতাংশ) বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে পরিবহন, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ খাতে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। ২০১০-২০১১ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিলো ৫.৫৯ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধিতে ডাক ও তার যোগাযোগ সেবা এবং আকাশপথ পরিবহন উপখাত এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে এ দুটি উপ-খাতের প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৯ দশমিক ২৪ ও ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ।
