গার্দিওলাকে নিয়ে কানের চিন্তা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:১৫
স্প্যানিশ আর জার্মান ফুটবল; পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল। এই পার্থক্যটাই আবার সামনে নিয়ে আসলেন সাবেক জার্মান অধিনায়ক ও গোলরক্ষক অলিভার কান। সদ্য বুন্দেসলিগার দল বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেয়া কোচ পেপ গার্দিওলার সিদ্ধান্ত তাই অযৌক্তিক ঠেকছে কানের কাছে। বার্সেলোনার হয়ে জয় করেছেন ১৪টি শিরোপা। তারকাদের চাপ সামলানো থেকে নতুন তারকাদের সুযোগ দেয়া; সব কাজই করেছেন বেশ দক্ষতার সাথে। তাই গত মৌসুমে বার্সেলোনা দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর তাকে কোচ হিসেবে দলে পেতে উঠে পড়ে লেগেছিল বিশ্বের নামি-দামি সব ক্লাবগুলো। তবে, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের কোচ হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৪২ বছর বয়সী গার্দিওলা। তবে গার্দিওলার সিদ্ধান্তে মোটেও খুশি হননি কান। বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বিল্ড পত্রিকাকে দেয়া কলামে তিনি বলেন, ‘গার্দিওলার কাজ মূলত খুদে তারকাদের তুলে এনে তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব বাড়ানো। তবে, বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়দের একই কাতারে ফেলা ভুল হবে গার্দিওলার। গার্দিওলা বায়ার্নে যে পরিবর্তন আনতে চান সেটা একদিনের কাজ নয়। লুইস ফন গাল (বায়ার্নের সাবেক কোচ) অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেন। তবে, গার্দিওলার ধরন তেমন নয়। তিনি বলের পজিশন ধরে রেখে অনেক ধীর ফুটবল খেলানোর পক্ষে।’ জার্মানী জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে ৮৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন কান। আর নিজ দেশের ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলেছেন ৪২৯টি ম্যাচ। তাই বায়ার্ন মিউনিখের খেলার ধরন নিয়ে তার জানার পরিধিটাও বেশি। তিনি বলেন, ‘গার্দিওলার কোচিংয়ের ধরনটাই অন্যরকম। তবে, তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের খেলোয়াড় দরকার সেটা বায়ার্নের নেই। উদাহরণ হিসেবে লিওনেল মেসির কথা বলা যায়। প্রয়োজনের মুহূর্তে গার্দিওলা মেসিকে “ফলস নাইন” হিসেবে ব্যবহার করেন। আর বায়ার্নের হয়েও যদি একই ফর্মুলা কাজে লাগাতে চান তাহলে ভুল করবেন গার্দিওলা।’ কান আরও বলেন, ‘গার্দিওলা ও বায়ার্নের স্পোর্টস ডিরেক্টর ম্যাথিউস স্যামনারের একটি ধারাবাহিক পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করতে হবে। আর এটাই ইউরোপের সেরা দল হওয়ার পিছনে তাদের মূল বাধা।’ এই বাধা পেরোতে পারাই এখন গার্দিওলার জন্য মূল চ্যালেঞ্জ!