গল্প নয় সত্যি

ঘুমের কারণে!

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:২১
এমনিতে ঘুমের মতো এমন আনন্দময় আর নির্ভেজাল কাজ খুব কমই আছে। কিন্তু অসময়ে কিংবা ভুল জায়গায় ঘুমালে তা যে যে কারও জন্যই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে সেটি নতুন করে আরও একবার উপলব্ধি করলেন ইয়েভগেনি মাখনো। সম্প্রতি কোর্টে একটি প্রতারণা মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়ার সময় বিচারকের ভূমিকায় থাকা ইয়েভগেনি মাখনো বেশ কয়েকবার হালকা ঝিমুনি থেকে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে এ নিয়ে শোরগোল ওঠে। বিষয়টা হয়তো আদালতের চারদেয়ালের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু প্রযুক্তির অতিব্যবহারের এই যুগে বাদ সাধে এক বেরসিক ও তার মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও। রায় নিয়ে সংক্ষুদ্ধ হওয়ার পর আসামি পক্ষের আইনজীবী এই ভিডিওটিও দ্রুতই প্রকাশ করে দেন একাধিক ওয়েবসাইটে। সেই সূত্র ধরে পরে তা প্রচারিত হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও। অথচ যে মামলা নিয়ে এত শোরগোল এবং যেখানে বিচারকের ঘুমিয়ে পড়ার লক্ষণ ভিডিওতে স্পষ্ট সেই শুনানি শেষে অভিযুক্তকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন অভিযুক্ত বিচারক ইয়েভগেনি মাখনো। আর বিচারকের এই রায় মানুষের ক্ষোভের আগুনে বাড়তি জ্বালানি জোগাচ্ছে। শুনানিতে আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক মন দিয়ে না শুনেও মাখনো কীভাবে অভিযুক্তকে দণ্ড দিলেন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে রাশিয়ার বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা আর মানকেও। মজার বিষয় হলো অভিযোগ ওঠার পর পর একাধিক স্থানে দেওয়া বক্তব্যে মাখনো দাবি করেছিলেন যে, তিনি আসলে সে সময় ঘুমাচ্ছিলেন না। বরং চোখ বন্ধ করে মনোযোগ দিয়েই আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনছিলেন। যদিও জনরোষ আর ভিডিও’র বাস্তবতার কাছে হালে পানি পায়নি মাখনোর এই দাবি। ফলে একরকম বাধ্য হয়েই বিচারক পদ থেকে ইস্তফা দেন মাখনো। যদিও মাখনোকে তার এই কাজের জন্য কোনো ধরনের শাস্তি না দিয়ে রাশিয়ার জাজেস কোয়ালিফিকেশন প্যানেল জানিয়েছে, মাখনো চাইলে পুনরায় একটি পরীক্ষা দিয়ে আবারও বিচার কাজে অংশ নিতে পারবেন। একই সাথে এই ঘটনায় ভুল বিচারের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনাকে আমলে নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর মামলাটি নতুন করে শুনানির জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে।