অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগে পরিচালনা কমিটির এজেন্ডা বাস্তবায়নে জড়িত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) মো. শাহেদুল খবিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে ভিকারুননিসার কমিটি বাতিলেরও দাবি জানান তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
অভিভাবকদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ কে এম খোরশেদ আলম বলেন, ‘ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও গভর্নিং বডির কতিপয় সদস্য আর্থিকভাবে লাভবান হতে না পেরে গত ৮ বছরেও অধ্যক্ষ নিয়োগ দেননি। তবে মেয়াদের শেষ দিকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বর্তমান কমিটি। যদিও এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার দাবি অভিভাবকদের। কিন্তু নিয়োগ কমিটি তাদের পছন্দের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা শাহীন শেফাকে অধ্যক্ষ নিয়োগের পাঁয়তারা করে। বিষয়টি অভিভাবকরা জানতে পেরে গত ২৫ এপ্রিল অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু মহাপরিচালক এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ২৬ এপ্রিল পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরীকে ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। নিয়োগ কমিটি তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্রে ৩০ নম্বরের ১০টি প্রশ্নের মধ্যে ৭টি প্রশ্ন ইংরেজি ভাষায় উত্তর দেওয়ার জন্য এবং ৩টি বাংলা ভাষায় উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করেন। কোনো প্রশাসনিক পদের জন্য ইংরেজি ভাষায় অধিক প্রশ্ন দেওয়ার নজির নেই।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গভর্নিং বডির সদস্যরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গত ২৭ এপ্রিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা শাহীন শেফাকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার সব প্রক্রিয়া শেষ করেন। বিভিন্ন সময় গভর্নিং বডির সদস্যদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভর্তি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন করা হয়। এসব আবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত হয়নি। এমনকি শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অভিভাবকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- আ. রহিম রানা, মো. মাজহারুল ইসলাম তুহিন, আ. মজিদ সুজন, আনিসুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, রবিউল হাসান ইমন প্রমুখ।
এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু একটি সিন্ডিকেট স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ ভণ্ডুল করতে নানা ধরনের অপতত্পরতা চালাচ্ছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিচ্ছে ও সংবাদ সম্মেলন করছেন। আর ভর্তির সময়ে যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্বে ছিলেন তার স্বাক্ষর ছাড়া একটা ভর্তিও হয়নি।
