যৌতুকের কারণে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ স্বর্ণা আক্তার ও তার পিতা-মাতা বিচারপ্রার্থী হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অষ্টগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করা হলেও মূল আসামিকে রেখে সহযোগীদের বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এদিকে প্রধান আসামিও হাইকোর্ট থেকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে এসে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়াসহ নানারকম হুমকি দিচ্ছে বাদির পরিবারকে। বর্তমানে ভিকটিমসহ বাদির পরিবারের লোকজন দারুণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযোগে প্রকাশ, এক বছর পূর্বে অষ্টগ্রাম উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের জসীম মিয়ার কন্যা স্বর্ণা আক্তারকে (২০) পার্শ্ববর্তী আলমদিঘীর পার গ্রামের মস্তু মিয়ার ছেলে নার্গিস মিয়ার (২৪) সঙ্গে বিয়ে দেয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য স্বামী এবং শ্বশুর মস্তু মিয়া, শাশুড়ি মিনারা বেগম (৩৮) ও ভাসুর পারভেজ মিয়া (২৬) স্বর্ণার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। স্বর্ণা আক্তারের পিতা জসীম মিয়া জানান, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে টিভি ও আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ নার্গিস মিয়াকে নগদ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক প্রদান করা হয়। এরপর আরো ১০ হাজার টাকা দেয়ার জন্য স্বর্ণার ওপর চাপ সৃষ্টি ও তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। একদিন স্বর্ণা পিতার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকার করলে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ভাসুর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে কিল-ঘুষি মারে এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটুনি দেয়। একপর্যায়ে স্বামী নার্গিস মিয়া একটি কাঁচের গ্লাস তার মুখে ছুঁড়ে মারলে কাঁচের গ্লাস ভেঙ্গে স্বর্ণার মুখ রক্তাক্ত জখম হয়। খবর পেয়ে জসীম মিয়া মেয়েকে উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। তার মুখে ১৮টি সেলাই দেয়া হয়। এ ব্যাপারে উল্লেখিত ৪ জনকে আসামি করে অষ্টগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। জসীম মিয়া অভিযোগ করেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আ. জলিল শুধুমাত্র স্বামী নার্গিস মিয়াকে আসামি দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বাকি তিন জনকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। জসীম মিয়া অভিযোগ করেন, আসামি নার্গিস মিয়া হাইকোর্ট থেকে জামিনে এসেই মামলা প্রত্যাহার করা না হলে স্বর্ণার মুখ এসিড দিয়ে ঝলসে দিবে বলে হুমকি প্রদান করছে। ফলে বর্তমানে খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে পরিবারটি।
