ঝালকাঠিতে পান বরজে ছিট পড়া, পাতা ঝরা রোগ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৯
সিডরে আমাগো গেছে এক ক্ষতি, এবার ছিটপড়া ও পান ঝরায় আরেক ক্ষতি শুরু অইছে। এই রহম ক্ষতিতে আমাগো জীবন শেষ। এহন চড়া সুদের চাপে পোলাপান লইয়া না খাইয়া মরণডা বাহি। ব্যাংক মোগো সহজ শর্তে ঋণ দেলে সুদের টাহা দিয়া নতুনভাবে শুরু করতাম। এসব কথা বলতে বলতে দুইচোখ থেকে পানি বেরিয়ে এল গাভারাম চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বেরমহল এলাকার পান চাষি মাখন গাইনের স্ত্রী আল্লাদি গাইনের (৫০)। গত ১০ দিন টানা শৈত্যপ্রবাহ এবং কুয়াশায় ঝালকাঠি জেলার বরজে এবার পানের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। লতা থেকে পান পাতা হলদে হয়ে ঝরে পড়ছে। পাশাপাশি ছিটপড়া ভাইরাস রোগেও আক্রান্ত হয়েছে পান। তাই এবার চড়া সুদে আনা ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পান চাষিরা। ঝালকাঠি জেলার ৪ উপজেলার প্রায় ১৫ শত হেক্টরে পান আবাদ হয়। তবে জেলা কৃষি বিভাগের কাছে পান আবাদি জমির সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় রায় বলছেন ৮ শ হেক্টর, কিন্তু জেলা কৃষি অধিদপ্তরের রেকর্ডে ৪৭২ হেক্টরে পান আবাদের কথা উল্লেখ আছে। পান চাষিদের কোন পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। চলতি বছর পানের ক্ষতির কথা স্বীকার করলেও কৃষি বিভাগের খাতায় ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ নেই। তবে কৃষকদের দাবি জেলায় এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা। ঝালকাঠির পান গ্রাম হিসেবে পরিচিত সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বেরমহল, জুতিয়া এবং একশারাপাড়া গ্রাম। এছাড়াও কাঠালিয়ায় তুলনামূলক কম হলেও রাজাপুর ও নলছিটি উপজেলায় ব্যাপক পানের আবাদ হয়। বেরমহল গ্রামের চাষি চিত্তরঞ্জন হাং, মাখন গাইন, রমেন, গৌরঙ্গ, বাবু লাল বেপারীসহ অনেক পান চাষি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ টানা শৈত্যপ্রবাহ এবং কুয়াশার কারণে পানে এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পান বিক্রি করা তো দূরের কথা অধিকাংশ পান ছিট পড়ে হলুদ বর্ণ ধরে পচে যাচ্ছে। চাষের জন্য প্রতিবারের ন্যায় এবারো এনজিওসহ মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে আনা টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো এ টেনশনে রাতের ঘুম হারাম হয়েছে। ১০ হাজার টাকায় ১১ হাজার ৫শ টাকা এক বছরে সুদ। এখন পানের ভরা মৌসুম। কিন্তু এবার কোন চাষি এখন পর্যন্ত ১ হাজার টাকার পান বিক্রি করতে পারেনি। তারা আরো জানান, ২২৫ টাকার ১ জন শ্রমিকের মজুরি এবার ৩০০ টাকা, ১২শ টাকার ১৬ পোন বাঁশের শলা এবার ২২শ টাকা, গত বছর ২২শ টাকার ৭০ কেজির ১ বস্তা খৈল এবার ৩২ শ টাকা। এভাবে প্রতিটি জিনিসের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় চড়া সুদে টাকা এনে জমিতে খাটান তারা। আর এখন পানে পচন ধরায় আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় নেই বলে জানান, হতাশাগ্রস্ত অনেক পান চাষি। তাদের অভিযোগ, এ দুর্যোগের আগেভাগে ক্ষতির পরিমাণ কমাতে কোন পরামর্শ দিতে আসেনি এলাকার কোন কৃষি কর্মকর্তা। কিন্তু জেলার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় জানালেন উল্টো কথা। তিনি বলেন, আমরা পান চাষিদের প্রতিবছরের ন্যায় এবারো এ দুর্যোগ এড়াতে পরামর্শ দিয়েছি।