ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফয়লা গ্রামের ফারজানা খাতুন সুমি নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী তিন ফোঁটা গাছের রস খাইয়ে দুরারোগ্য ক্যান্সারসহ সর্বরোগের চিকিত্সা দিচ্ছে। দেড় বছর ধরে সে এ চিকিত্সা দিয়ে আসছে। এজন্য শত শত রোগী ভিড় জমাচ্ছে। সুমি জানায়, একদিন রাতে স্বপ্নে ক্যান্সারসহ সর্বরোগ নিরাময়ের ওষুধের গাছের নাম পান। পরে আরেক দিন স্বপ্নে একজন তার সামনে হাজির হয়ে বলেন, ক্যান্সার চিকিত্সার ওষুধের গাছ তোমার বাড়িতে আছে। ওই গাছের রস এক ফোঁটা করে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় খাওয়ালে রোগ সেরে যাবে। সুমির দাবি খুলনায় খালা বাড়ি যেয়ে প্রথম স্বপ্নে পাওয়া চিকিত্সা দেয়া শুরু করে। তার দাবি ৩ ফোঁটা ওষুধ খেয়ে রোগ ভাল হওয়ায় তা এলাকায় প্রচার পায়। কালীগঞ্জে ফিরে আসার পর লোকের আগমন বাড়তে থাকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সে আগত রোগীদের ওষুধ খাইয়ে দেয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার শত শত মানুষ কথিত ঐ কবিরাজের চিকিত্সা পেতে ভিড় করেছে। রাতেই অনেকে নসিমন মাইক্রো করে এসে কবিরাজ সুমির বাড়ির পাশে মেহগনি বাগানে এসে জড়ো হয়েছে। মহিলার সংখ্যা ৮০ ভাগ। বাগানের ভিতর বিছানা পেতে শুয়ে আছে অনেকে। সকালে লাইনে বসে হা করে তারা। কবিরাজ ঝড়ের বেগে প্রত্যেকের মুখে ড্রপারে এক ফোটা করে ওষুধ দিয়ে থাকে। একজন মহিলা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দু’বার এসে ওষুধ খেয়ে গেছেন। রোগ সারেনি। তাই ফের এসেছেন।
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারি প্রফেসর ডাক্তার আবুল ফাত্তাহ জানান, তিন ফোঁটা গাছের রসে ক্যান্সারসহ সব রোগ সেরে যাবে এটা চিকিত্সা বিজ্ঞানে নেই। এ প্রতারণা মূলক অপচিকিত্সা। ডাক্তারের দেয়া ওষুধ খাওয়া বাদ দেয়ায় রোগ আরো বেড়ে যাবে বলে তিনি জানান।
