নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে সরকারি খাস জলাভূমি উদ্ধারের পর মত্স্যজীবীদের নামে ইজারা প্রদানের জন্য সায়রাতভুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের বরাবরে আবেদন করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘদিনেও সে আবেদনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে উদ্ধার হওয়া ওই সরকারি খাস জলাভূমি বেদখল হয়ে গেছে। প্রভাবশালীরা আবারও ওই জলাভূমি নিজেদের দখলে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন কুন্দল ও কয়া মৌজার ১৬ একর বিল শ্রেণির খাস ভূমি রয়েছে। বিল শ্রেণিভুক্ত ওই ভূমি খাস খতিয়ানে নথিভুক্ত থাকলেও বিষয়টি কেউ জানতো না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই ভূমি নিজেদের হিসাবে ভোগ-দখল করে আসছিলেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই- বাছাইকালে দেখা যায়, দলিলমূলে ওই জমি ২০০৩-২০০৪ সালে মোস্তফা ফিরোজের নামে নামজারি রয়েছে। এ অবস্থায় একই জমি দুই মালিক দাবিদার হওয়ায় বিষয়টি অধিকতর তদন্তের উদ্যোগে নেন তত্কালীন সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম। তিনি নীলফামারী ও রংপুর মফেজখানার সহায়তায় এনিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান করেন। এতে দেখা যায়, ওই জমি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত বিল শ্রেণির জমি। অনুসন্ধানে শুধু ওই জমি নয়, কুন্দল ও কয়া মৌজার সর্বমোট ১৬ একর খাস খতিয়ানভুক্ত জলাভূমির সন্ধান মেলে। পরে গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর ওই ১৬ একর জলাভূমির নামজারি বাতিল করে খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়।
