তারল্য সংকট থাকা সত্ত্বেও পদ্মা সেতু নির্মাণে পুঁজিবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি রকিবুর রহমান। তিনি বলেন, বন্ড ছেড়ে কিংবা পদ্মা সেতুর প্রকল্পকে কোম্পানিতে রূপান্তরিত করে শেয়ার ছেড়ে সেতু নির্মাণের অন্তত অর্ধেক টাকা পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব। গতকাল রবিবার পুঁজিবাজার সমন্বয় কমিটির এক সভাশেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে গত সাড়ে তিন মাস ধরে দৈনন্দিন লেনদেন হচ্ছে দুইশ থেকে তিনশ কোটি টাকা। একদিনও লেনদেনের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি হয়নি। বাজারে তারল্য সঙ্কট তীব্র হলেও পুঁজিবাজার থেকে পদ্মা সেতুর জন্য এতো বিশাল অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে কোনো বিষয়েই সাংবাদিকদেরকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে রকিবুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে পুঁজিবাজার সবচেয়ে কার্যকর এবং উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতুকে কোম্পানিতে রূপান্তরিত করে সরকার টাকা সংগ্রহ করতে পারে। পাশাপাশি সরকারের মালিকানায় থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার ও তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিগুলোর (যে কোম্পানিগুলোর কিছু শেয়ার আগে ছাড়া হয়েছে) আরো কিছু শেয়ার বাজারে ছেড়েও টাকা সংগ্রহ করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অন্তত তিন বছরে পর্যায়ক্রমে টাকা সংগ্রহ করতে হবে। বন্ড ছেড়ে টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব দাবি করে রকিবুর রহমান বলেন, জিরো কুপন বন্ড (এই বন্ড ছাড়ার ফলে সংগৃহীত টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অল্প অল্প করে ফেরত দিতে হয়) কিংবা শেয়ারে কনভার্টিবল বন্ড (যে বন্ড নির্দিষ্ট মেয়াদ পর বন্ড মালিক কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বিবেচিত হবে) ছেড়েও টাকা সংগ্রহ করা যেতে পারে।
রকিবুর রহমান বলেন, এসব পদ্ধতি অনুযায়ী সরকার পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয় অন্তত অর্ধেক টাকা তুলতে পারবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে যার যার অবস্থানে থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের জন্য অর্থের অভাব হবে না। ডিএসই প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, বিগত দিনেও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই কথার গুরুত্ব দেয়া হয়নি।
ডিএসই কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি নুরুল আমিন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি এম এ হাফিজসহ আরো অনেকে।
পদ্মা সেতুর জন্য পুঁজিবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে রকিবুর রহমান বলেন, সরকার ব্যাংক বা অন্য কোনো খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করলে ব্যাংক সুদ হার বেড়ে যাবে। এতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, প্রভাবিত হবে অর্থনীতি। বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার জন্য এসব প্রকল্পে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান তিনি।
