রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার একটি বস্তিতে গতকাল রবিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বস্তির মোটর গ্যারেজ, দোকান ও কাঁচা বসতঘরসহ ১৪৫টি ঘর পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের হিসাব অনুযায়ী ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বস্তির লোকজন এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
ফায়ার কর্মীরা জানান, রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার সামনে ইসলামী ফাউন্ডেশনের পাশে আগারগাঁও বস্তিতে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তিন ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বস্তির বাসিন্দা রশীদের ভগ্নিপতি কাদেরের ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বস্তিবাসী আসাদুল হক বলেন, তারা একটি ঘরে বসেছিলেন। এমন সময় পাশের ঘরের এক খালা চিত্কার করে কাদেরের ঘরে আগুন লাগার খবর দেন। সবাই তখন দৌড়ে গিয়ে দেখেন ঘরটি তালাবদ্ধ। এ সময় বিদ্যুতের মেইন লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়। আগুনের তীব্রতার কারণে কেউ ঘরটির কাছে যেতে পারেনি। আগুন ওই ঘর থেকে ঘরে দ্রুত ছড়াতে থাকে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে কর্মরত আশিকুল ইসলাম বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশনের ভবন থেকে মাঝখানের দু’টি ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে তাদের অফিস থেকেই ফায়ার সার্ভিসে ফোন করা হয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসতে একটু সময় লাগায় বস্তির প্রায় অর্ধেক ঘর পুড়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি বলেছেন, বস্তিবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। পুলিশ, র্যাব, কমিউনিটি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি ছাত্রলীগও আগুন নেভাতে সাহায্য করেছে বলে জানান নানক। তিনি বলেন, এছাড়াও রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা পাহারাদারের মতো রয়েছেন, যাতে করে কোনো মালামাল চুরি না হয়ে যায়। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্বহারাদের সাহায্যার্থে সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নানক। এ অগ্নিকাণ্ড উদ্দেশ্যমূলক কিনা জানতে চাইলে নানক বলেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রয়েছেন। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখবেন। যদি তাদের তদন্তে এমন কিছু পাওয়া যায় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান বলেন, বস্তিবাসীদের অসচেতনতার কারণেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঢাকার প্রতিটি বস্তিতে গণবসতি হওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। যে কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফায়ার সার্ভিসের ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম থাকায় আমাদের আসতে একটু দেরি হয়েছে। আমাদের ৯টি ইউনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।’
