ভারত মহাসাগরে প্রায় ডুবন্ত মাছ ধরার একটি নৌকা থেকে শতাধিক বাংলাদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, গতকাল রবিবার দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ঐ ব্যক্তি বাংলাদেশী বলে জানা গেছে।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র কোসালা ওয়ারনাকুলাসুরিয়া বলেন, মোট ১৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে যাদের মধ্যে ১২৭ জন বাংলাদেশী এবং ১১ জন মিয়ানমারের নাগরিক। উদ্ধারকারী লোকজনদের মধ্যে তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। তবে মিয়ানমারের নাগরিকরা সেদেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে জানা যায়নি। নৌকাটি অন্তত দশদিন ধরে সাগরে ভাসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় জেলেরা সাগরে দুই দিন ধরে নৌকাটিকে ভাসতে দেখার পর তারা বিষয়টি মত্স্য কর্তৃপক্ষকে জানায়। নৌবাহিনীর মুখপাত্র আরো বলেন, মত্স্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর পূর্ব উপকূল থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে তিনটি জাহাজ পাঠিয়ে ডুবন্ত নৌকা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। নৌবাহিনীর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে যাত্রীদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করার পর তাদেরকে উপকূলীয় শহর ওলুভিলে নৌবাহিনীর একটি ক্যাম্পে রেখে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। যাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক তাদেরকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দিনের পর দিন না খেয়ে থাকার কারণে প্রত্যেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রায় অচেতন অবস্থায় অনেককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত যাত্রীরা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, এই কয় দিন তারা শুধু সাগরের পানি খেয়েই বেঁচে ছিলেন। ভাষাগত কারণে উদ্ধারকৃতদের সাথে কথা বলতে কর্তৃপক্ষের অসুবিধা হওয়ায় দুটো দেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে দোভাষী পাঠাতে বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এরা কাজের খোঁজে মালয়েশিয়ার দিকে যাচ্ছিল। তবে নৌকাটি কোন্ দেশ থেকে যাচ্ছিল সে বিষয়ে শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব টেকনাফ উপকূল থেকে নৌকায় করে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টাকালে বেশ কয়েকটি নৌকা আটক করেছে বাংলাদেশের উপকূল রক্ষীরা। শ্রীলঙ্কা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তারা নিশ্চিত যে এসব যাত্রী শ্রীলঙ্কায় যেতে চায়নি। পুলিশের মুখপাত্র প্রিশান্ত জায়াকোদিমাঝ বলেন, সাগরে তাদের নৌকায় সমস্যা দেখা দিলে তারা ভাসতে ভাসতে পূর্ব উপকূলের দিকে চলে আসার পর তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এদের বক্তব্য রেকর্ড করার পর তাদেরকে রাজধানী কলম্বোর অস্থায়ী ক্যাম্পে পাঠানো হবে। তাদেরকে উদ্ধারের পর শ্রীলঙ্কার সমুদ্র উপকূলে নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে বলে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
