অরক্ষিত বইমেলা! তিনটায় মেলার দ্বার উন্মোচনের পর থেকেই পাঠকের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু গতকাল দুপুর পৌনে চারটা পর্যন্ত আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেখা যায়নি মেলার প্রবেশ পথে। এইসময় কোন আর্চওয়েও ছিল না প্রবেশ মুখে। ছিল না মেটাল ডিটেক্টর হাতে কোন পুলিশ। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে কালীমন্দিরের গেট রয়েছে সেখানেও পুলিশ বাহিনীর কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এই দিক দিয়ে যারা প্রবেশ করছে তারা কোন রকম তল্লাশির আওতায় পড়ছেন না। ফলে সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত ছিল মেলায় প্রবেশ পথ। এ প্রসঙ্গে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি গোলাম কুদ্দুছ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা মনে রেখেই এবার মেলার পরিসর ছোট করা হয়েছে। অথচ আইন-শৃঙ্খলার ব্যবস্থাপনা এরকম ঢিলেঢালা হলে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। তিনি এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সুরাহা করবেন বলে জানান। এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমীর জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মুর্শিদ আনোয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
গতকাল মেলায় তৃতীয় দিনেও দর্শনার্থীর কমতি ছিল না মেলায়। সন্ধ্যের আগে রীতিমত ভিড় জমে গিয়েছিল কিছু কিছু স্থানে। টানা দুই দিনের ছুটি শেষে গতকাল রবিবার ছিল প্রথম কর্মদিবস। আগের দুই দিনের মতো ভিড় না থাকলেও পাঠকদের সরব উপস্থিতি ছিল মেলাজুড়ে।
নজরুল মঞ্চের চিত্র : রবিবার নজরুল মঞ্চে পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়। এর মধ্যে দি রয়েল পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত দর্পণ কবীরের ‘ফেরারী বসন্ত’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন লুত্ফর রহমান রিটন, ভোরের কাগজের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ ও আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন। অপর চারটি বইগুলো হলো-‘শিশু ফুল’, ‘মানুষের দেশে পরী’, ‘সঙ্গীতের প্রিয় মানুষরা’ ও ‘কষ্ট’।
নতুন বই : একাডেমীর সমন্বয় ও জনসংযোগ উপ-বিভাগ থেকে জানা যায়, গতকাল মেলার তথ্যকেন্দে নতুন বই। এর মধ্যে গল্প ৫, উপন্যাস ২৫, প্রবন্ধ ৭, কবিতা ১৫, গবেষণা ৩, শিশুসাহিত্য ২, জীবনী ১, মুক্তিযুদ্ধ ৫, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ২, ইতিহাস ৪, রম্য/ধাঁধা ৩, অনুবাদ ৩, সায়েন্স ফিকশন ১ এবং অন্যান্য বই বের হয়েছে ১৭টি।
এর মধ্যে সময় প্রকাশন থেকে এসেছে মুনতাসীর মামুন সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ : ১ থেকে ১২ খন্ড’, অন্যপ্রকাশ এনেছে আবদুশ শাকুরের রবীন্দ জীবনের অনুজ্জ্বল অঞ্চল’, তাম্রলিপি মুহম্মদ জাফর ইকবাল ‘ইস্টিশন’, মাওলা ব্রাদার্স এনেছে আনোয়ারা সৈয়দ হকের ছোটগল্প সংকলন ‘পূর্ণিমায় নখের আঁচড়’, অনন্যা এনেছে আবেদ খান সম্পাদিত ‘জীবনের গল্প জীবনযুদ্ধের গল্প’, মুক্তধারা এনেছে মালেকা বেগমের ‘বিপন্ন নারী’, বিদ্যাপ্রকাশ এনেছে মোহিত কামালের উপন্যাস ‘মরুঝড়’, পাঠসূত্র এনেছে ত্রিশাখ জলদাসের ‘জড়তুল্য পাথর’, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে এসেছে সেলিনা হোসেনের ‘কাঁচাতারে প্রজাপতি’ উপন্যাসের পরিমার্জিত সংস্করণ, অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে হুমায়ূন আহমেদের কলামগ্রন্থ ‘হিজিবিজি’, বিভাষ থেকে এসেছে হাসান শান্তনুর গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘গণমাধ্যম নিপীড়ন : ১৯৭২-২০১২’, আগামী প্রকাশনী থেকে এসেছে মৌলি আজাদের ‘প্রিয়ানা, চোখ ও ঝরনার জলে স্নাত এক প্রপাতের ফোয়ারা’, অ্যার্ডন থেকে এসেছে জয়শ্রী সরকারের গবেষণাগ্রন্থ ‘প্রান্তবাসী হরিজনদের কথা’, প্রতীক থেকে এসেছে আহসান হাবীবের ‘কৌতুকস্’ প্রভৃতি।
মেলামঞ্চের আয়োজন : রবিবার মেলামঞ্চে ছিল ‘বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতির রূপান্তরের ধারা’ শীর্ষক সেমিনার। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মেঘনা গুহঠাকুরতা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রবিউল ইসলাম এবং মুজতবা আহমেদ মুরশেদ। সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসবিদ সিরাজুল ইসলাম। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে আবৃত্তি পরিবেশন করেন লায়লা আফরোজ ও মাহিদুল ইসলাম। সঙ্গীত পরিবেশন করেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, মিতা হক, পাপিয়া সারোয়ার, তপন মাহমুদ, ফাহিম হোসেন চৌধুরী ও মহিউজ্জামান চৌধুরী।
আজকের আয়োজন : আজ সোমবার মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রযুক্তি বিপ্লব ও মুদ্রিত বইয়ের ভবিষ্যত্’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাকারিয়া স্বপন। আলোচনায় অংশ নেবেন অসীম সাহা, মোস্তফা জব্বার এবং মজিদ মাহমুদ। সভাপতিত্ব করবেন সামসুল বারি। সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
