দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে অল্প খরচে সাগর পথে অবৈধভাবে স্বপ্নের মালয়েশিয়া যাত্রা করেছিল তারা। গত তিন মাসেও হদিস নেই চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ১০ ব্যক্তির। পরিবারের সদস্যরাও জানেন না তারা কোথায় কি অবস্থায় আছে । তবে অনেকের ধারণা তারা হয়তো ট্রলার ডুবিতে আর বেঁচে নেই। নতুবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়ে তাদের আশ্রয় হয়েছে কোন কারাগারে। এদিকে তাদের পরিবারে চলছে এখন নিদারুণ কষ্ট ও হাহাকার। অনেকের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে জীবিত থাকলে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসী জানায়, গতবছরের নভেম্বর মাসে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাড়ি জমায় উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের গর্জনতলী গ্রামের অনেকে। পরিবারের সাথে তাদের কথা হয়েছিলো যে, সেই দেশে গিয়ে তারা মুঠোফোনে যোগাযোগ রক্ষা করবে। কিন্তু মালয়েশিয়া যাত্রার দীর্ঘ প্রায় তিন মাস সময় অতিবাহিত হলেও এখনো তাদের পরিবারের সদস্যরা জানেন না তারা আদৌ বেঁচে আছে কিনা। স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক আরমান চৌধুরী জানান, নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়া যাত্রা করে গর্জনতলী গ্রামের মৃত আবদুস ছালামের ছেলে নূরুল আজিম, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে নূরুল আবছার, হাসান আলীর ছেলে ছৈয়দ আলম, নবী হোছাইনের ছেলে নূরুল ইসলাম, সিরাজুল হকের ছেলে মনছুর আলম, সোনা মিয়ার ছেলে মো.শাহাজালাল, মৃত আমির হোছাইনের ছেলে দিল মোহাম্মদ, আবদুশ শুক্কুরের ছেলে সিরাজুল ইসলাম, মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে মো.সেলিম, আবদুল মোনাফের ছেলে ওয়াজ উদ্দিনসহ অনেকে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়নে নাম অজানা আরো একাধিক ব্যক্তি রয়েছে নিখোঁজের তালিকায়। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.জয়নাল আবদীন বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার থেকে লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
