জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ০০:২৭

পাঁচ বছর আগে স্কুলভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও ভবনের অভাবে সেই জরাজীর্ণ ভবনেই কোমলমতি শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য অতিরিক্ত কোনো কক্ষ না থাকায় শিক্ষকবৃন্দ ২৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন ভবনটিতে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে ক্লাস রুমে। তখন ছাদ ধসে পড়ার শঙ্কায় ভোগে সবাই। সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নে অবস্থিত চরপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে এভাবেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

চরপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ভবনটি স্থাপিত হয় ১৯৯২/৯৩ সালে। মাত্র ২৭ বছরের মাথায় এই ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। বছর পাঁচেক আগে প্রকৌশলীরা জরিপ করে বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করে। জরাজীর্ণ এ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ভবনের ছাদ ও দেওয়ালের পলেস্তারা উঠে গেছে। মাঝে মধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা ও সুরকি খসে পড়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। ভবনের পিলার ও ছাদের সুরকি খসে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। ভবনটি হয়ে পড়েছে স্যাঁতসেতে। যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে। বর্ষার দিনে সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষের মেঝে তলিয়ে যায়। বৃষ্টিতে ভিজে যায় বইপত্র ও শিক্ষার্থীরা। ভারী বর্ষণ হলে ভবন ধসের শঙ্কা বেড়ে যায়। অভিভাবকেরা স্কুলে বাচ্চাদের পাঠাতে চান না।

বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. নূর জামানও বলেন, যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে। প্রধান শিক্ষক আসমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়টি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভয়ে ভয়ে ক্লাস করতে হয়। চারটি কক্ষের মধ্যে একটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত। বাকি তিনটি কক্ষ জরাজীর্ণ হলেও নিরুপায় হয়ে সেগুলোতেই ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ভবনটি মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় সেটি ধসে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

সিরাজদিখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।