নৌপথে দেশে ঢুকছে অবৈধ পণ্য

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩২
দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নৌ-রুটে পণ্য চোরাচালান চক্র ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কোস্টগার্ড জলদস্যু দমনে ব্যস্ত থাকায় এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা প্রতিদিন নৌ-সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় শাড়ি ও স্বর্ণসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য অবৈধভাবে আমদানি করছে। গত শুক্রবার রাতে এ রকম একটি বিশাল চালানসহ ১১ জনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। তবে ওই চক্রের মূল হোতাকে ধরা সম্ভব হয়নি। দু’যুগেরও বেশি সময় ধরে বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারতীয় জলসীমা অতিক্রম করে বরগুনার পাথরঘাটা, কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুর, হাজিপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আনা পণ্য বরিশাল হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পথে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া মেঘনার হিজলা পয়েন্ট ও ভোলার দৌলতখানের চৌকিঘাটা দিয়েও পণ্য আনা-নেয়া করে চোরাচালানীরা। তারা পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের আলোর কোল, ভান্ডারদিয়া ও বিষখালী নদী ব্যবহার করছে। এ চক্রটির সাথে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী মহল। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব এলাকা দিয়ে চোরাচালান হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ভারতীয় শাড়ী-কাপড়, থ্রীপিস ও স্বর্ণ চোরাচালান করতে গিয়ে বরিশালের ব্যবসায়ীরা একের পর এক ধরা খাওয়ার পর এখন পাথরঘাটার এক ব্যবসায়ীর হাতে চলে গেছে পুরো চোরাচালান ব্যবসা। পাথরঘাটার স্থানীয়রা জানান, ওই চোরাকারবারী ভারতে যাতায়াত করতে গিয়ে সেখানেই বিয়ে করেন। এখন স্ত্রীকে নিয়েই বরফ কলসহ নানা ব্যবসার আড়ালে চোরাচালানী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। অথচ তিনি পাথরঘাটার স্থায়ী বাসিন্দা নন। অধিকাংশ সময় তিনি ভারত ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন। প্রশাসন থেকে এ অঞ্চলের সকলেই তাকে চোরাকারবারী হিসাবে এক নামে চেনেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর পাথরঘাটার চরদুয়ানীর অদূরে বঙ্গোপসাগরে টেকদিয়া নিদ্রা সকিনার কাছে ভারতীয় পণ্যবোঝাই আল মদিনা নামে তার একটি ট্রলার আটক করে কোস্টগার্ড। ট্রলার থেকে যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বাড়ি পিরোজপুর, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। ট্রলার থেকে জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রীপিস, শাল ও চাদর। যার মূল্য আট কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। এ ব্যাপারে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনের লেফটেন্যান্ট কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভারতীয় পণ্য বোঝাই ট্রলারটি আটক করা হয়। এ ঘটনায় পাথরঘাটা থানায় মামলা হয়েছে। এদিকে ট্রলারটি আটকের পর পরই ওই আলোচিত চোরাকারবারী মোটা অংকের টাকা নিয়ে তদ্বিরে নামেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেষ পর্যন্ত চালানটি মুক্ত করতে না পারলেও আটক ব্যক্তিরা যাতে তার নাম প্রকাশ না করে সে জন্য তিনি জোর তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন।