ইটিং আউট

নতুন ধাঁচে নান্দুস

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৭:৫০
পেরি পেরি চিকেনের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। এর ঝাঁজ আর অতুলনীয় স্বাদ সব ভোজন রসিকেরই জিভে জল এনে দেয়। পেরি পেরি চিকেনের একমাত্র আয়োজক নান্দুস এবার হাজির হয়েছে গুলশান ২ নম্বরের নতুন ঠিকানায়। ভিন্ন ধাঁচ আর খাবারে নতুন আঁচ নিয়ে নান্দুসের এই নতুন শাখা ঘুরে লিখেছেন আর ছবি তুলেছেন এমএইচ মিশু কড়চা ইটিং আউট যখন নান্দুসের বনানী শাখায় পৌঁছায় তখনই আমরা জেনেছিলাম যে এই শাখা থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী সবগুলো শাখায় নান্দুস তার ইন্টেরিয়র ডিজাইনে ভিন্নতা আনবে। হলোও তাই। গুলশান দুইয়ের নতুন নান্দুসের পুরো চেহারাটাই একেবারে ভিন্ন। অপরাপর নান্দুসগুলোর তুলনায় ভিন্ন পাশাপাশি একটু ছোট পরিসরের সাজ মিলবে এখানে। চেখে দেখার মতো অনেক কিছুই মিলবে এই শাখায়। যারা ইতোমধ্যে নান্দুসের খাবার উপভোগ করেছেন তাদের কাছেও এই নতুন পরিবেশ একটু অন্যরকম মনে হবে। প্রবেশ পথের সামনেই একটা ডিম্বাকৃতির আসন বিন্যাস। এখানে অর্ধবৃত্ত আকারে দেয়ালগুলো একটু ভেতরে চেপে গেছে। আর দেয়ালের সাথে বসেছে লাগোয়া আসন। এই আসনে বসে খাবার উপভোগের আরও একটা বিনোদন আছে। সেটা হলো নান্দুসের ঢাকনা ছাড়া রসুই ঘরে খাবার তৈরি প্রক্রিয়ার প্রায় পুরোটাই অবলোকন করা যায় এখানে থেকে। এরপর ভেতরের অংশটা একটা ইংরেজি ‘এল’ আকৃতির। ভেতরে অনেকগুলো ছোট-বড় আসনের ভাগ। নিজেদের প্রয়োজন মতো এসব আসনের যেকোনোটাতেই যে কেউ খাবার উপভোগ করতে পারেন। বনানী শাখার মতো এখানেও স্বচ্ছ কাচের দেয়াল তুলে রাস্তা আর রেস্টুরেন্টকে বিভাজন করা হয়েছে। আর তাই পথের ক্লান্তি, গতি কিংবা ঝরা পাতার উড়ে চলা, সবই দৃষ্টিগোচর হবে সহজে। প্রোগ্রেসিভ অ্যাফ্রো পর্তুগিজ স্টাইলে নান্দুসের এই ইন্টেরিয়র। ‘খাবারের জন্য পরিবেশটা কেমন হবে এমন ধারণাতে আমরা একটু পরিবর্তন আনছি। বনানী আর গুলশানের এই শাখাটি দেখলে অনেকেরই মনে হতে পারে জায়গাটি একটু ছোট। কিন্তু খাবারের সঙ্গে একটু গল্পস্বল্প আর সবাই মিলে খুব কাছাকাছি এক হয়ে খাবার গ্রহণ করার মজা আনতেই আমাদের এই আয়োজন,’ বললেন এমজিএইচ রেস্টুরেন্ট (প্রা.) লি. জিএম অপারেশন্স কেএসএম মোহিত-উল বারী। সত্যিই তাই আফ্রিকান আর পর্তুগিজ স্টাইলের মিশেলে এখানে খুঁজে পাওয়া যায় কাঠ, মাটি আর লোহার এক ভিন্ন মিশ্রণ। সিলিং থেকে শুরু করে মেঝে সব জায়গাতেই ব্যবহার করা হয়েছে এমন কিছু উপকরণ যা আপনাকে নিয়ে যাবে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি। দুই হাজার বর্গফুট জায়গাটা সাজানো হয়েছে একসাথে ৭০ জন ভোজন রসিকের জন্য উপযোগী করে। বাটি ভর্তি গলে যাওয়া পনির আর নানা মসলায় তৈরি সসে উবু হয়ে ভেসে আছে কিছু চিকেন লিভার। চামচে গেঁথে মুখে পুরলেই হারিয়ে যাবে। সাথে আছে ধবধবে সাদা, নরম কিন্তু গরম পিটা ব্রেড। এটাকে অনায়াসে আমাদের ঢাকাই তন্দুরি রুটি বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে। প্লেটের আর এক পাশে গ্রিল করা চিকেন উইংগুলো একটা আরেকটার সাথে লেগে আছে আঠালো বার-বি-কিউ সসের সরস ভালোবাসায়। সবশেষে একটা বড় বাটিতে কোরানো নারকেলের আদলে খানিকটা পেরি হোমোস আর পাতলা ঝোলে ভেজানো মুরগির কিছু হাড়বিহীন নিরীহ গোছের মাংস। এই পুরোটাই হলো নান্দুসের নতুন চমক, পেটিস-কো প্ল্যাটার। পুরোপুরি পর্তুগিজ এই রেসিপি যেকোনো ভোজন রসিককে মোহিত করবে। খাবারের প্রশংসায় না গিয়ে শুধু এটুকু জানিয়ে দিই ৮৯৫ টাকার এই খাবারটি গ্রহণ করতে আপনাকে ব্যয় করতে হবে প্রায় ৪০ মিনিট। আর এই ৪০ মিনিট নান্দুস আপনাকে পৃথিবীর জাগতিক ভাবনা থেকে নিয়ে যাবে অন্য এক দুনিয়ায় যেখানে খাবার আর আপনি ছাড়া সবকিছুই ঝাপসা।